সকালে চা-কফি খেলেই হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছে?
সকালের ঘুমঘুম ভাব কাটাতে এক কাপ চা কিংবা কফি অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। কিন্তু সেই পানীয়তে চুমুক দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই যদি হঠাৎ বুক ধড়ফড় করতে শুরু করে বা হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়, তখন বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। সব ক্ষেত্রে অবশ্য এটি গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ নয়। তবে বার বার এমন হলে উপসর্গটি অবহেলা করাও ঠিক নয়।
চা-কফি খেলে হৃৎস্পন্দন কেন বাড়তে পারে?
হৃদ্রোগ চিকিৎসক আকাশ মোটগির মতে, চা বা কফি খাওয়ার পর হৃৎস্পন্দন বেড়ে গেলেই সেটিকে কোনও নির্দিষ্ট রোগের লক্ষণ বলে ধরে নেওয়া যায় না। এর পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।
প্রথম কারণ ক্যাফিন। চা এবং কফিতে থাকা ক্যাফিন শরীরে অ্যাড্রিনালিনের ক্ষরণ বাড়াতে পারে। এর ফলে শরীর কিছুটা বেশি সজাগ হয়ে ওঠে, রক্তচাপ সাময়িক ভাবে বাড়তে পারে এবং তার সঙ্গে হৃৎস্পন্দনও দ্রুত হতে পারে। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে।
তবে সমস্যা হতে পারে যখন নিয়মিত ভাবে অতিরিক্ত পরিমাণে চা বা কফি খাওয়া হয়। বেশি ক্যাফিনের প্রভাবে বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা, বুকে অস্বস্তি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
কখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন?
চা-কফি খাওয়ার পর হৃৎস্পন্দন সামান্য বাড়ল এবং কিছুক্ষণ পর নিজে থেকেই স্বাভাবিক হয়ে গেল—সাধারণত তাতে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু হৃৎস্পন্দন যদি দীর্ঘ সময় ধরে অস্বাভাবিক ভাবে দ্রুত চলতে থাকে, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, কিছু ক্ষেত্রে এর সঙ্গে অ্যারিদমিয়া, অর্থাৎ হৃদ্যন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দনের সম্পর্ক থাকতে পারে।
বিশেষ করে হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে যদি বুকে ব্যথা বা চাপ, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা কিংবা জ্ঞান হারানোর মতো অনুভূতি হয়, তা হলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত।
অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং বিশ্রাম নেওয়ার পরেও বুক ধড়ফড় বা দ্রুত হৃৎস্পন্দন কমছে না—এমন পরিস্থিতিও অবহেলা করা ঠিক নয়।
তাহলে চা-কফি কি একেবারেই বাদ?
সবার ক্ষেত্রে চা বা কফি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে পান করার পর বার বার বুক ধড়ফড় করলে ক্যাফিনের পরিমাণ কমিয়ে উপসর্গটি নজরে রাখা যেতে পারে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জল খাওয়া, ঘুমের ঘাটতি এড়ানো এবং অতিরিক্ত ক্যাফিন গ্রহণ না করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে নতুন করে শুরু হওয়া, বার বার হওয়া বা তীব্র হৃৎস্পন্দনের সমস্যা নিজে থেকে শুধুমাত্র চা-কফির কারণে হচ্ছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়। উপসর্গের সঙ্গে অন্য কোনও সতর্কতামূলক লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।