যৌন অপরাধীর দ্বীপ সফরের অভিযোগে সরগরম আমেরিকা
আমেরিকার কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল। তাঁর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ আগেই উঠেছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। এবার সেই একই বিতর্কে নাম জড়িয়ে গেল টেসলার সিইও ও ধনকুবের ইলন মাস্কেরও। এমনকি, মাস্কের পরিকল্পিত সফরের কথাও উঠে এসেছে ডেমোক্র্যাটদের প্রকাশ করা নতুন নথিতে।
সম্প্রতি মার্কিন ডেমোক্র্যাট পার্টি এপস্টিনকে ঘিরে একটি ছয় পাতার নথি প্রকাশ করেছে। তাতে দাবি করা হয়েছে, ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমস-এ সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন মাস্ক। এপস্টিনের মালিকানাধীন ওই দ্বীপটি ১৯৯৮ থেকে ২০১৯ সালে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নানাবিধ যৌন অপরাধের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, বহু নারী ও নাবালিকাকে সেখানে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালানো হত।
নথিতে শুধু মাস্কের নামই নয়, আরও একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠাতা বিল গেট্স, ট্রাম্পের প্রাক্তন উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন, বিনিয়োগকারী পিটার থিয়েল এবং ব্রিটেনের প্রিন্স অ্যান্ড্রু। সূচি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৫ ডিসেম্বর, মাস্কের সম্ভাব্য সফরের এক দিন আগে এপস্টিনের সঙ্গে প্রাতরাশের কথা ছিল বিল গেট্সের। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্যাননের সঙ্গেও দেখা করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।
এই প্রকাশ্যে আসা তালিকাকে কেন্দ্র করে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে হইচই পড়ে গেছে। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, এ নথি প্রমাণ করে যে, এপস্টিনের সঙ্গে প্রভাবশালী মহলের গভীর সম্পর্ক ছিল এবং মাস্কও সেই জাল থেকে বাদ যাননি। তাঁদের দাবি, মাস্ক ওই দ্বীপে সফর করেছিলেন। নথিতে তাঁর নামের পাশে ছোট করে লেখা রয়েছে, “এখনও কি চলছে?”, যা ইঙ্গিত দেয় যে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও চলতে পারে।
তবে ইলন মাস্ক এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন। এক্স (আগের টুইটার)-এ একটি সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে লিখেছেন, “This is false” — অর্থাৎ, “এটা মিথ্যা”। তিনি দাবি করেছেন, কখনও ওই দ্বীপে যাননি এবং এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।
এপস্টিন বিতর্কে মাস্কের নাম উঠে আসা আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, কয়েক মাস আগেও তিনিই ট্রাম্পকে কটাক্ষ করেছিলেন এই একই ইস্যুতে। তখন তিনি ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন এবং এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। পরে অবশ্য তিনি সেই পোস্ট মুছে দেন। এখন নিজেই একই বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি ঘিরে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
ডেমোক্র্যাটরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন, এপস্টিন ফাইল সম্পূর্ণ প্রকাশ করা হোক। তাঁদের মতে, তাতে শুধু এপস্টিন নেটওয়ার্ক নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বহু গোপন তথ্যও সামনে আসবে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এ বিষয়ে অনিচ্ছুক। ফলে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
নতুন নথি প্রকাশের পর এপস্টিন মামলার তদন্তের দাবি ফের জোরালো হয়ে উঠেছে। আমেরিকার রাজনীতি থেকে ব্যবসা—প্রভাবশালী অনেকেই যে এই অন্ধকার জগতে যুক্ত থাকতে পারেন, তার ইঙ্গিত মিলেছে। মাস্কের মতো বিশ্ববিখ্যাত উদ্যোক্তার নাম সেই তালিকায় উঠে আসায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
তবে তিনি সত্যিই এপস্টিনের দ্বীপে গিয়েছিলেন কি না, সেই প্রশ্নের এখনও নিশ্চিত উত্তর নেই। ডেমোক্র্যাটদের দাবি ও মাস্কের অস্বীকার—দুটির মাঝখানে সত্যিটা কোথায়, তা জানতে এখন নজর মার্কিন বিচার বিভাগের দিকে। এক সময় যিনি অন্যদের দিকে আঙুল তুলেছিলেন, তিনিই যদি একই কাদায় পা ডুবিয়ে থাকেন, তবে তা মাস্কের ভাবমূর্তির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
ব্যালকনির উপর উড়ালপুল! নাগপুরের সেতু স্মরণ করাচ্ছে ভোপালের ৯০ ডিগ্রি রেলসেতুর ঘটনার কথা