হরমুজ় ঘিরে মার্কিন নৌবহরের তৎপরতা!
হরমুজ় প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। ইরানের বিরুদ্ধে ফের সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার মধ্যে আমেরিকা ওই অঞ্চলে আরও নৌবাহিনী ও সেনা পাঠাচ্ছে। বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডর রুজভেল্টের নেতৃত্বে একটি স্ট্রাইক গ্রুপও পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে।
শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক সময় ব্যারেলপিছু ১০২ ডলারের আশপাশে পৌঁছয়। মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুডও ৯২ ডলারের উপরে ছিল। হরমুজ় ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগই তেলের দামের অন্যতম চালিকাশক্তি।
ভারতের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অপরিশোধিত তেলের চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় চড়ে থাকলে আমদানির খরচ বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে পরিবহণ, শিল্প এবং জ্বালানি-নির্ভর বিভিন্ন পণ্যের দামে। তবে আন্তর্জাতিক দামের ওঠানামা সরাসরি একই হারে ভারতের পাম্পের দামে প্রতিফলিত হয় না।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ়?
পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তেল ও গ্যাস পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ় প্রণালী। ইরাক, কুয়েত, কাতার, বাহরিন-সহ উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রফতানির ক্ষেত্রে এই পথের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেই বিশ্ববাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
বিকল্প পথ থাকলেও সেগুলি সহজ নয়। সৌদি আরবের ক্ষেত্রে পাইপলাইন দিয়ে লোহিত সাগর হয়ে তেল পাঠানোর সুযোগ রয়েছে। আবার সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপ ঘুরে ভারত মহাসাগরে আসাও সম্ভব। কিন্তু দীর্ঘ সমুদ্রপথের কারণে সময় ও পরিবহণ খরচ দুটোই বেড়ে যায়। তার সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিমার খরচও বাড়তে পারে।
অর্থাৎ হরমুজ়ে অচলাবস্থা তৈরি হলে শুধু তেলের জোগান নয়, তেল পরিবহণের সামগ্রিক খরচও বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
G7-এর বড় পদক্ষেপ
তেলের বাজারে চাপ কমাতে ইতিমধ্যেই বড় পদক্ষেপ করেছে G7। জোটের দেশগুলি আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা বা IEA-র মাধ্যমে চার মাস ধরে জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও জ্বালানি বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজ়েল বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
IEA জানিয়েছে, মার্চে অনুমোদিত ৪০ কোটি ব্যারেলের জরুরি মজুত ছাড়ার কর্মসূচিরও বড় অংশ ইতিমধ্যে বাজারে এসেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল সরবরাহের ঘাটতি সামাল দিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো।
তবে হরমুজ় ঘিরে সামরিক উত্তেজনা যত দিন থাকবে, তত দিন আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটবে না। ভারতের ক্ষেত্রেও তাই নজর থাকবে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক দাম, আমদানি খরচ এবং জ্বালানি সরবরাহের পরিস্থিতির দিকে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।