হরমুজ় প্রণালী পেরোতে লাগতে পারে পরিষেবা কর, নতুন নীতির পথে ইরান!
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ় প্রণালী ঘিরে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিল ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলিকে পরিষেবা কর দিতে হতে পারে। তবে যেসব দেশ সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে বা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড পিস ফোরামে এই ঘোষণা করেন চিনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদোলরেজ়া রহমানি। তাঁর বক্তব্য, ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে। সেই ব্যবস্থার আওতায় জাহাজগুলির কাছ থেকে পরিষেবা বাবদ নির্দিষ্ট অর্থ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাষ্ট্রদূতের কথায়, এটি কোনও সাধারণ ‘টোল ট্যাক্স’ নয়। তাঁর দাবি, নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা, জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষার মতো বিভিন্ন পরিষেবার বিনিময়েই এই অর্থ নেওয়া হবে। হরমুজ় ইরানের জলসীমার অংশ হওয়ায় এই পরিষেবা ফি আরোপের অধিকার তাদের রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সম্প্রতি আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করলেও হরমুজ় প্রণালীর উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণে কোনও শিথিলতা আনবে না বলে আগেই জানিয়েছিল ইরান। বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছিলেন, অন্তত ৩০ দিন এই নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। সমঝোতা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হলেও, সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরে কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে হরমুজ় নিয়ে আরও বিস্তারিত শর্ত থাকতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা।
ইরানের রাষ্ট্রদূত আরও জানান, যেসব দেশ কঠিন সময়ে তেহরানের প্রতি ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও কোনও দেশের নাম তিনি উল্লেখ করেননি, তবু কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভারতের নাম সেই তালিকায় থাকতে পারে।
পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত করেছিল। পরে কয়েকটি দেশের জন্য সেই বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়, যার মধ্যে ভারতীয় জাহাজও ছিল। ফলে নতুন পরিষেবা কর ব্যবস্থা কার্যকর হলে ভারত কিছু বিশেষ ছাড় বা সুবিধা পেতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তাই হরমুজ় প্রণালীতে নতুন কর ব্যবস্থা চালু হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং সামুদ্রিক পরিবহণে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে করের হার, কার্যকর হওয়ার সময় এবং কোন কোন দেশ বিশেষ সুবিধা পাবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি ইরান।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?