‘হরমুজ়’ থেকে ‘ট্রাম্প প্রণালী’?
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার আবহে ফের শিরোনামে ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি মানচিত্র পোস্ট করে তিনি কার্যত বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন। সেখানে বহু গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী–এর নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালী’ লেখা দেখা গেছে।
নিজের সমাজমাধ্যম Truth Social-এ ট্রাম্প একটি সংশোধিত মানচিত্র শেয়ার করেন। মানচিত্রে স্পষ্টভাবে ‘স্ট্রেট অফ হরমুজ়’-এর জায়গায় ‘স্ট্রেট অফ ট্রাম্প’ লেখা থাকলেও পোস্টে কোনও ব্যাখ্যা বা ক্যাপশন দেননি তিনি। এই নীরবতাই আরও কৌতূহল এবং বিতর্ক বাড়িয়েছে।
জানা যাচ্ছে, মানচিত্রটি প্রথমে ‘IStandWithTrump47’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। পরে সেটিই নিজের প্রোফাইলে শেয়ার করেন ট্রাম্প। তবে এটি কি সরকারি সিদ্ধান্ত, না কি শুধুই প্রতীকী বা রাজনৈতিক বার্তা— সে বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্টতা নেই।
এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, হরমুজ় প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ, যার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবহণ হয়। এই জলপথের নাম বদল কোনও একক দেশের পক্ষে বাস্তবে কার্যকর করা সম্ভব নয়— এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এরই মধ্যে ইরান-এর সঙ্গে চলা উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সম্প্রতি ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তান ও ওমান সফর শেষে শান্তি ফেরাতে আমেরিকাকে একাধিক প্রস্তাব দিয়েছেন। তেহরানের তরফে জানানো হয়েছে, তারা চায় হরমুজ়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হোক এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে উঠুক।
তবে শর্তও রয়েছে— আমেরিকা যদি ওই অঞ্চলে অবরোধ শিথিল করে এবং উত্তেজনা কমায়, তবেই পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় ফিরতে রাজি ইরান। যদিও মার্কিন প্রশাসনের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের প্রস্তাবে খুব একটা আগ্রহী নয়।
সব মিলিয়ে, একটি মানচিত্র পোস্ট ঘিরে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা শুধু নাম বদলের প্রশ্নে আটকে নেই— বরং তা মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনীতির প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।