হরমুজ় প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজের অবাধ যাতায়াত, কূটনৈতিক তৎপরতায় স্বস্তিতে নয়াদিল্লি

হরমুজ় প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজের অবাধ যাতায়াত! মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের জন্য এসেছে কিছুটা স্বস্তির খবর। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং হরমুজ় প্রণালীতে সম্ভাব্য অবরোধের আশঙ্কা থাকলেও ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলির চলাচল…

May 30, 2026
1 min read

হরমুজ় প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজের অবাধ যাতায়াত!

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের জন্য এসেছে কিছুটা স্বস্তির খবর। ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং হরমুজ় প্রণালীতে সম্ভাব্য অবরোধের আশঙ্কা থাকলেও ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলির চলাচল এখনও নির্বিঘ্ন রয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এর পিছনে রয়েছে নয়াদিল্লির নীরব কিন্তু কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ।

হরমুজ় প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করা এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে যে কোনও উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে ইজ়রায়েল ও আমেরিকার হামলার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান হরমুজ় প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমিত করার হুঁশিয়ারি দেয়। এর জেরে প্রণালীর দুই প্রান্তে বহু জাহাজ আটকে পড়ে। সেই তালিকায় ছিল ভারতের একাধিক তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজও।

এই পরিস্থিতিতে সক্রিয় হয় ভারতীয় কূটনীতি। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একাধিকবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সূত্রের দাবি, সেই আলোচনার ফলেই মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজগুলির জন্য বিশেষ ছাড়পত্র দেয় ইরান সরকার। ফলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে বড় কোনও বাধা তৈরি হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকায় ভারতীয় জাহাজগুলির চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।

হরমুজ় প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ অবশ্য এখনও পুরোপুরি কাটেনি। ইরানের অবস্থান, মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি এবং বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করে রেখেছে। এর প্রভাব তেলের দাম থেকে শুরু করে বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়ছে।

এদিকে ভারতের জাহাজ ও বন্দর মন্ত্রকের অধীন নৌপরিবহণ বিভাগের আধিকারিকরাও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে হরমুজ় প্রণালী এলাকায় প্রায় ১৩টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এলপিজি ট্যাঙ্কার, অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাঙ্কার, কেমিক্যাল ট্যাঙ্কার, কন্টেনার জাহাজ, বাল্ক ক্যারিয়ার এবং একটি ড্রেজ়ার।

নৌপরিবহণ সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যদিও কূটনৈতিক আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবুও ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত বজায় থাকাই যে বর্তমানে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার, তা স্পষ্ট।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *