এআই-এর ‘দাদাগিরি’ কম কোন ডিগ্রিতে?
কলেজ শেষ করে চাকরির বাজারে পা রাখার আগে যে প্রশ্নটা এখন পড়ুয়াদের ভাবাচ্ছে, তা শুধু ‘কত বেতন পাব?’ নয়। তার সঙ্গে জুড়েছে আরও বড় প্রশ্ন— যে বিষয়ে পড়াশোনা করছি, সেই কাজটাই যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) করে দিতে পারে, তা হলে ভবিষ্যতে চাকরির সুযোগ কোথায়?
আমেরিকার ইউএস সেনসাস ব্যুরোর সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর একটি গবেষণাপত্র এই উদ্বেগেরই কিছুটা পরিমাপ করার চেষ্টা করেছে। ২৬টি কলেজ বিষয়কে সংশ্লিষ্ট পেশায় এআই-এর সম্ভাব্য প্রভাবের ভিত্তিতে ১০টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, নার্সিং, শিক্ষকতা, থেরাপি, মেডিক্যাল প্রযুক্তি-সহ বেশ কিছু বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত পেশায় এআই-এর ‘এক্সপোজ়ার’ তুলনামূলক ভাবে কম।
গবেষণার একেবারে নীচের অর্থাৎ প্রথম স্তরে রয়েছে ন’টি বিষয়— নার্সিং, ট্রিটমেন্ট থেরাপি, প্রাথমিক শিক্ষা, বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মেডিক্যাল টেকনোলজি, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়াদের শিক্ষা, শিশুশিক্ষা, শিক্ষা প্রশাসন এবং মেডিক্যাল অ্যাসিস্টিং।
দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে আরও ১৭টি বিষয়। এর মধ্যে সাধারণ স্বাস্থ্য পরিষেবা, বাস্তুবিদ্যা, ক্রিমিনাল জাস্টিস ও ফায়ার প্রোটেকশন, ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞান ও অঙ্কের শিক্ষকতা, শিল্প ও সঙ্গীত শিক্ষা, পরিবহণ প্রযুক্তি, বনবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা ও কৃষিবিদ্যা এবং প্রাণিবিজ্ঞান রয়েছে।
অন্য দিকে, কম্পিউটার সায়েন্স, অ্যাকাউন্টিং, সাংবাদিকতা এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একাধিক ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত কাজ গবেষণায় তুলনামূলক বেশি এআই-এক্সপোজ়ড হিসেবে উঠে এসেছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে। কোনও বিষয়কে ‘নিরাপদ’ বলা হয়নি। গবেষণার ‘এক্সপোজ়ার’ মাপটি মূলত সংশ্লিষ্ট পেশার কাজের ধরন কতটা এআই-এর মাধ্যমে প্রভাবিত হতে পারে, তার একটি পরিমাপ।
অর্থাৎ নার্সিংয়ের ক্ষেত্রে রোগীর সরাসরি পরিচর্যা, শারীরিক পর্যবেক্ষণ এবং বদলে যাওয়া ক্লিনিক্যাল পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কাজ রয়েছে। শিক্ষকতার ক্ষেত্রেও পড়ুয়ার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত এবং মানবিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। এআই পাঠ পরিকল্পনা, নোট বা ওয়ার্কশিট তৈরিতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু গোটা পেশাটিই তার হাতে চলে যাবে—এমন দাবি এই গবেষণায় নেই।
বরং গবেষণার একটি বড় বার্তা হল, এআই-এর প্রভাবের সঙ্গে চাকরি ও উপার্জনের সম্পর্ক ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি এআই-এক্সপোজ়ড কলেজ বিষয়গুলির স্নাতকদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা প্রায় ৫ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে এবং প্রথম দিকের ত্রৈমাসিক উপার্জন প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে বলে গবেষণায় হিসাব করা হয়েছে।
তবে পুরো ছবিটা শুধু চাকরি কমার নয়। ইউএস সেনসাস ব্যুরোর অন্য গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের মার্চে প্রায় ৫৬ শতাংশ মার্কিন কর্মী কাজের অন্তত একটি ক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করার কথা জানিয়েছেন। অর্থাৎ এআই অনেক ক্ষেত্রেই কর্মীকে সরিয়ে দেওয়ার বদলে কাজের সহায়ক হিসাবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
আর ভারতীয় পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি সতর্কতাটি হল— এই ২৬ বিষয়ের তালিকা ভারতের চাকরির বাজারের র্যাঙ্কিং নয়। এটি আমেরিকার কলেজ স্নাতক এবং সেখানকার শ্রমবাজারের তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি। ফলে ভারতে কোনও ডিগ্রির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই তালিকাকে সরাসরি ব্যবহার করা ঠিক হবে না।
ভারতের অর্থনৈতিক সমীক্ষাতেও এআই-এর প্রভাবে বিশেষ করে প্রবেশস্তরের চাকরি নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানুষকে কেন্দ্র করে নতুন ধরনের কাজ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে, এআই-এর যুগে ‘কোন ডিগ্রি একেবারে নিরাপদ?’—এর সরল উত্তর নেই। বরং যে পেশায় মানবিক যোগাযোগ, হাতে-কলমে কাজ, পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত এবং সহমর্মিতার গুরুত্ব বেশি, সেখানে এআই-এর প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে। তাই শুধু বিষয় বাছাই নয়, নিজের পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে এআই-কে কী ভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিও ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।