১৫ সপ্তাহের সংঘাতের পর শান্তির পথে আমেরিকা-ইরান!!
দীর্ঘ ১৫ সপ্তাহের উত্তেজনা, সংঘাত ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাল আমেরিকা ও ইরান। বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান আনুষ্ঠানিক ভাবে সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে পাকিস্তানের নাম, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ জানিয়েছেন, দুই রাষ্ট্রনেতার স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই চুক্তির শর্তগুলি কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও আমেরিকা ১৪ দফা শর্ত প্রকাশ করলেও, ইরান এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
চুক্তির মূল বিষয়গুলি কী?
যুদ্ধবিরতি ও পারস্পরিক সম্মান
চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উভয় দেশ এবং তাদের সহযোগী রাষ্ট্রগুলি যুদ্ধ বন্ধে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দুই দেশ।
৬০ দিনের আলোচনার নতুন পর্ব
চূড়ান্ত চুক্তির আগে আগামী ৬০ দিন ধরে বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে। প্রয়োজন হলে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে।
হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়ার উদ্যোগ
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ় প্রণালীতে আবার স্বাভাবিক নৌচলাচল চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ধাপে ধাপে অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইরানের পুনর্গঠনে বিশাল অর্থনৈতিক প্যাকেজ
যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ইরানের জন্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলারের পুনর্গঠন প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এই অর্থ কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
তেল রফতানি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতের উপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরেও ইরানের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন বিধিনিষেধ শিথিল করার কথা বলা হয়েছে।
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন বোঝাপড়া
ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ব্যবহার ও সংরক্ষণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলাদা আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
বাজেয়াপ্ত সম্পদ ফেরানোর প্রতিশ্রুতি
আমেরিকার হাতে থাকা ইরানের কিছু বাজেয়াপ্ত সম্পদ ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
পাকিস্তানের কূটনৈতিক সাফল্য?
চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলির একটি হল পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উঠে আসা। দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক থাকা দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সেতুবন্ধন তৈরিতে ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা শুধু আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্কেই নতুন অধ্যায় খুলবে না, বরং পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ় প্রণালী খুলে গেলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে।
এখন নজর থাকবে, চুক্তির শর্তগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী আস্থার সম্পর্ক গড়ে ওঠে কি না।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?