অস্ত্রভান্ডার ফুরিয়ে আসছে? ইরানের সামনে যুদ্ধবিরতি ছাড়া আর পথ নেই, দাবি ট্রাম্পের

ইরানের সামনে যুদ্ধবিরতি ছাড়া আর পথ নেই, দাবি ট্রাম্পের! পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়েও জোর জল্পনা…

June 6, 2026
0 min read

ইরানের সামনে যুদ্ধবিরতি ছাড়া আর পথ নেই, দাবি ট্রাম্পের!

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে কি না, তা নিয়েও জোর জল্পনা চলছে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং অস্ত্রভান্ডারে টান পড়ায় তেহরানের সামনে যুদ্ধবিরতি ছাড়া কার্যত আর কোনও বাস্তবসম্মত বিকল্প নেই।

শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে ইরানের বহু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। তাঁর কথায়, “ইরানের অধিকাংশ ড্রোন কারখানা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও তাদের হাতে এখনও কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে, তবে যুদ্ধের শুরুতে যে পরিমাণ অস্ত্র ছিল, এখন তা আর নেই।”

ট্রাম্পের দাবি, বর্তমানে ইরানের হাতে মোট ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডারের মাত্র ২১ থেকে ২২ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে। এর আগেও মে মাসে তিনি বলেছিলেন, ইরানের হাতে মাত্র ১৮ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। যদিও এই পরিসংখ্যানের স্বাধীন কোনও যাচাই এখনও সামনে আসেনি।

তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের বিপরীতে ইরান এখনও নিজেদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রেখেছে বলেই মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক। শুক্রবার ওমান উপসাগরে অবস্থানরত দুটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারের দিকে ‘সতর্কতামূলক ক্ষেপণাস্ত্র’ নিক্ষেপের দাবি করেছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তাদের বক্তব্য, এই পদক্ষেপের জেরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। একই দিনে ইজ়রায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক অভিযান চালায়। এর জবাবে ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ শুরু করে এবং পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা, ইজ়রায়েল ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে হামলা চালায়।

সংঘর্ষের সময় ইরানের একাধিক শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হলেও দেশটি আত্মসমর্পণের পথে হাঁটেনি। পরে আন্তর্জাতিক চাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার ফলে দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির খসড়া। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ইরান হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেবে এবং তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে। বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান প্রাথমিকভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।

তবে শেষ সিদ্ধান্ত এখনও ঝুলে রয়েছে। কারণ ট্রাম্প এখনও ওই চুক্তিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। ফলে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হবে, নাকি আবার নতুন করে সংঘাত শুরু হবে— তা নিয়ে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *