খার্গ আইল্যান্ডে চোখ!
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে লক্ষ্য করে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন। খার্গ আইল্যান্ডের তেলভান্ডার দখলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি, এমনকি ইঙ্গিত দিয়েছেন স্থলপথে সেনা অভিযানও হতে পারে।
রবিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যানশিয়াল টাইমস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “সত্যি বলতে, ইরানের তেলভান্ডার নিয়ন্ত্রণ করা আমার প্রিয় কাজের মধ্যে একটি। কিন্তু আমেরিকার কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলছে কেন আমরা এটা করছি। ওরা বোকা।” ট্রাম্প আরও বলেন, “হয়তো আমরা খার্গ আইল্যান্ড দখল করব, নয়তো না। আমাদের অনেক কিছুই করতে হবে। তার মানে, আমাদের সেখানে কিছু সময় থাকতে হতে পারে।”
খার্গ আইল্যান্ডে আগে থেকেই মার্কিন হামলার ইতিহাস আছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দ্বীপের সামরিক ঘাঁটিগুলো নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে, কিন্তু তেলভান্ডারে এখনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে পণ্য পরিবহণে বাধা দেওয়া বন্ধ না হলে তেল ভান্ডারেও হামলা করা হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে তিনি ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনেছেন। সেখানে মার্কিন বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দেশে বসতেই তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং সেই দেশের তেলভান্ডারে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। ট্রাম্পের কথায়, ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পদক্ষেপ হতে পারে—যদিও তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে তাঁর মন্তব্যই সারা বিশ্বের তেলের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের তেলভান্ডারে মার্কিন হস্তক্ষেপ হলে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্র হবে এবং খনিজ তেলের দাম বাড়বে।
সম্প্রতি ওয়াশিংটন স্থলপথে অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছে এমন রিপোর্টও প্রকাশিত হয়েছে। দুই দিন আগে মাত্র ৩,৫০০ সৈন্য নিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছেছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস ট্রিপোলি, যা উভচর আক্রমণে সক্ষম। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের খার্গ দখলের ইঙ্গিতকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন কূটনীতিকরা।
তবে সম্পূর্ণ সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই বলেছে, তারা মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের শীঘ্রই মুখোমুখি আলোচনায় বসাবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশও সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য শুধু কূটনৈতিক ইঙ্গিত নয়, বরং মার্কিন নীতির নতুন সংকেত। খার্গ আইল্যান্ডের তেলভান্ডারে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ, স্থলপথে সেনা উপস্থিতি—সবই পশ্চিম এশিয়ার জ্বালানি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সুতরাং, খার্গ আইল্যান্ড শুধু ভূ-রাজনৈতিক যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু নয়, এটি আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের ভবিষ্যতের সঙ্কেতকেও চিহ্নিত করছে। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর আগামী কয়েক সপ্তাহে এই অঞ্চলে নজরদারি এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপ বাড়তে পারে, যা শুধু ইরান নয়, সারা বিশ্বের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না