গরমে লুকিয়ে থাকা বিপদ: শরীরে সোডিয়াম কমলে কী হয়, কখন সতর্ক হবেন?

শরীরে সোডিয়াম কমলে কী হয়, কখন সতর্ক হবেন? গরম পড়তেই শরীরের নানা সমস্যা মাথাচাড়া দেয়। তার মধ্যে একটি গুরুতর কিন্তু অনেক সময় অবহেলিত সমস্যা হল শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়া,…

March 24, 2026
1 min read

শরীরে সোডিয়াম কমলে কী হয়, কখন সতর্ক হবেন?

গরম পড়তেই শরীরের নানা সমস্যা মাথাচাড়া দেয়। তার মধ্যে একটি গুরুতর কিন্তু অনেক সময় অবহেলিত সমস্যা হল শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা কমে যাওয়া, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে হাইপোন্যাট্রেমিয়া নামে পরিচিত। বিষয়টি হালকা ভাবে নিলে চলবে না— কারণ অতিরিক্ত কমে গেলে তা প্রাণঘাতীও হতে পারে।

সোডিয়াম মূলত আমাদের শরীরের কোষের বাইরে, অর্থাৎ প্লাজ়মায় থাকে। এটি শরীরের জল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কিন্তু কোনও কারণে সোডিয়াম কমে গেলে কোষের ভিতরে জল ঢুকে কোষ ফুলে যায়— আর সেখান থেকেই শুরু হয় বিপদ।

কেন কমে যায় সোডিয়াম?

শরীরে সোডিয়ামের ঘাটতির পিছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে—

  • অতিরিক্ত বমি বা ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে লবণ বেরিয়ে যায়
  • হার্ট, কিডনি বা লিভারের সমস্যায় শরীরে জল জমে গিয়ে সোডিয়াম পাতলা হয়ে যায়
  • উচ্চ রক্তচাপের কিছু ওষুধও এই সমস্যা বাড়াতে পারে
  • থাইরয়েড বা হরমোনজনিত সমস্যাও দায়ী হতে পারে
  • গরমে অতিরিক্ত ঘাম ঝরলেও শরীর থেকে সোডিয়াম কমে যায়

বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে ডিহাইড্রেশন ও অতিরিক্ত জলপান— দু’টোই ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

কোন লক্ষণে বুঝবেন?

শরীরে সোডিয়ামের স্বাভাবিক মাত্রা থাকে ১৩৫-১৪৫ mEq/L-এর মধ্যে। এর থেকে কমে গেলে লক্ষণ অনুযায়ী তিনটি স্তর ধরা হয়—

মাইল্ড (১৩০-১৩৫):
হালকা দুর্বলতা বা অস্বস্তি— সহজেই ধরা পড়ে না।

মডারেট (১২০-১৩০):
খিদে কমে যাওয়া, ক্লান্তি, মনোযোগে ঘাটতি, বিভ্রান্তি— স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব পড়তে শুরু করে।

গুরুতর (১২০-এর নিচে):
খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া— এমনকি প্রাণসংকটও হতে পারে। এই অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা জরুরি।

কখন বেশি সতর্ক হবেন?

গরমের সময় শরীর থেকে জল ও লবণ দ্রুত বেরিয়ে যায়। অনেকেই ডায়েটের নামে নুন প্রায় বন্ধ করে দেন— যা বিপজ্জনক হতে পারে। আবার অনেকে অতিরিক্ত জল খেয়ে ফেলেন, তাতেও সোডিয়াম পাতলা হয়ে যায়।

তাই এই সময়ে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি—

  • অতিরিক্ত ঘাম হলে শুধু জল নয়, ইলেকট্রোলাইটও পূরণ করুন
  • ডায়রিয়া বা বমি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
  • নিজের মতো করে নুন কমানো বা বাড়ানো ঠিক নয়
  • দীর্ঘদিন ক্লান্তি বা বিভ্রান্তি থাকলে অবহেলা করবেন না

শেষ কথা

শরীর ঠিক রাখতে শুধু জল নয়, নুনের সঠিক ভারসাম্যও সমান জরুরি। খুব বেশি বা খুব কম— দু’টোই বিপজ্জনক। তাই গরমের দিনে শরীরের ছোট ছোট সংকেতকে গুরুত্ব দিন। প্রয়োজন হলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন— কারণ সচেতনতাই বড় সুরক্ষা।

মুক্তির আগেই বিপত্তি: ‘ধুরন্ধর ২’ প্রদর্শনে প্রযুক্তিগত জটিলতা, দর্শকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন Aditya Dhar

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *