ইরানে তীব্র আঘাত!
ইজ়রায়েলের বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের প্রভাবশালী নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি—এই দাবির সত্যতা অবশেষে স্বীকার করল তেহরান। কয়েক ঘণ্টার জল্পনার পর ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তাঁর মৃত্যুর কথা জানায়। বিবৃতিতে লারিজানিকে ‘শহিদ’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়া হবেই।
এই হামলায় শুধু লারিজানি নন, প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর পুত্র এবং ব্যক্তিগত দেহরক্ষীও। তাঁদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানিয়েছে কাউন্সিল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের উন্নতি এবং ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ রক্ষায় লারিজানি সারাজীবন লড়াই করেছেন। তাঁর এই মৃত্যু সেই সংগ্রামেরই এক পরিণতি, যা তাঁর কাছে গর্বের।
মঙ্গলবার দুপুরে (ভারতীয় সময়) প্রথমে ইজ়রায়েলের তরফে দাবি করা হয়, নির্দিষ্ট বিমান হামলায় লারিজানি নিহত হয়েছেন। ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজ়রায়েল কাটজ় এই দাবি করেন। তবে তখনই সেই খবর খারিজ করে দেয় ইরান। পরে পরিস্থিতি বদলায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, তেহরান-সহ ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলা চালানো হয়েছিল, এবং লারিজানি ছিলেন সেই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।
ইজ়রায়েলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছিল যে, বাসিজ় রেজ়িসট্যান্স ফোর্স-এর প্রধান গোলামরেজ়জা সোলেইমানিও ওই হামলায় নিহত হয়েছেন। যদিও তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
লারিজানির মৃত্যুর পর ইরানের সামরিক শীর্ষ মহল থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। দেশের সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই হত্যার প্রতিশোধ হবে “চূড়ান্ত এবং দুঃখজনক”। একই সুরে কথা বলেন খাতাম আল-আনবিয়ার কেন্দ্রীয় সদর দফতরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি। তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, “আমাদের চমকের জন্য প্রস্তুত থাকুন।” তাঁর দাবি, ইরানের পাল্টা আঘাত এমন হবে যা শত্রুরা কল্পনাও করতে পারবে না।
এদিকে, ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বারবার লারিজানিকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে সরানোই তাদের কৌশলগত লক্ষ্য। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন, এই লক্ষ্য অর্জন সহজ নয় এবং তা সময়সাপেক্ষ।
ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, কয়েক দিন আগেই লারিজানি নিজে প্রকাশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হুমকি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আপনার থেকেও বড় শক্তি ইরানকে ধ্বংস করতে পারেনি। সাবধান থাকুন, না হলে আপনাকেই মুছে দেওয়া হবে।” এই মন্তব্যের পর থেকেই উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এরপরই তিনি মুসলিম দেশগুলিকে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন।
লারিজানি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ঘনিষ্ঠ সহচর এবং দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি আগে রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের কমান্ডার এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সচিব হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন।
এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। এখন সবার নজর—ইরান কীভাবে এবং কবে এই আঘাতের জবাব দেয়।
ধীরে ধীরে কমান চিনির অভ্যাস: স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর কয়েকটি সহজ উপায়