“অভিনয়ে বড় হয়েছি, রাজনীতিতে বুড়ো হচ্ছি”— জীবনের ভারসাম্যের গল্প শোনালেন শতাব্দী রায়

জীবনের ভারসাম্যের গল্প শোনালেন শতাব্দী রায়! দরজা খুলতেই যেন একসঙ্গে ধরা দেন তিন মানুষ— অভিনেত্রী, রাজনীতিক আর কবি। সাদা-সুচ্ছল সাজানো ঘরের দেয়ালে টাঙানো সিনেমার স্মৃতি, আর এক কোণে বইয়ের তাক…

February 28, 2026
1 min read

জীবনের ভারসাম্যের গল্প শোনালেন শতাব্দী রায়!

দরজা খুলতেই যেন একসঙ্গে ধরা দেন তিন মানুষ— অভিনেত্রী, রাজনীতিক আর কবি। সাদা-সুচ্ছল সাজানো ঘরের দেয়ালে টাঙানো সিনেমার স্মৃতি, আর এক কোণে বইয়ের তাক ভর্তি কবিতার বই— এ যেন শতাব্দী রায়–এর জীবনেরই প্রতিচ্ছবি।

ব্যস্ততার ফাঁকেও তিনি সময় বের করেছেন নিজের সবচেয়ে ব্যক্তিগত পরিচয়ের জন্য— কবিতা। একক কবিতা পাঠের আসরের আগে আড্ডায় বসে তিনি বললেন, “আমি যতটা নেত্রী, এখনও ততটাই অভিনেত্রী। ছোট থেকে বড় হয়েছি অভিনয় করে, আর বুড়ো হচ্ছি রাজনীতি করতে করতে।”

ব্যস্ত জীবনের মাঝে শিল্পের টান

দিল্লি থেকে বীরভূম— রাজনৈতিক কাজের দৌড়ঝাঁপের শেষ নেই। তার সঙ্গে সংসার, দুই সন্তান, পোষ্য, গাছপালা— সব মিলিয়ে সময় যেন হাতছাড়া হয়ে যায়। তবু মাঝেমধ্যে ফেসবুকে দু’কলম লিখে নিজের কবিমনকে বাঁচিয়ে রাখেন তিনি।

অনেকে হয়তো জানেন না— তাঁর ১২টি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম বই বেরোয় ১৯৯৫ সালে, যখন তিনি বাংলা সিনেমার প্রথম সারির নায়িকা। তখন অনেকেই অবাক হলেও কেউ কেউ তাঁর লেখাকে উৎসাহ দিয়েছিলেন।

তিনি নিজেই বলেন, “দিনে তো ২৪ ঘণ্টাই থাকে। এত কাজের মধ্যে কবিতার জন্য আলাদা সময় বার করা খুব কঠিন। তবু ইচ্ছে থাকলে একটু সময় বের করতেই হয়।”

কবিতা পাঠের মঞ্চে ফেরার উচ্ছ্বাস

অনেক বছর পর আবার মঞ্চে বসে নিজের কবিতা পড়বেন তিনি। সেই উত্তেজনা লুকোন না। অনুষ্ঠানে থাকবেন তাঁর চলচ্চিত্র জগতের বন্ধু যেমন, তেমনই রাজনীতির সহকর্মীরাও।

শতাব্দীর কথায়, “সব কাজই আমি ভালবেসে করি। কিন্তু রাজনীতি সারাদিনের কাজ। তাই শিল্পচেতনার জন্য সময় পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।”

সিনেমা থেকে রাজনীতি— বদলের গল্প

রাজনীতিতে আসার পর অভিনয়ে সময় কমেছে ঠিকই, তবে তিনি নিজেকে এখনও অভিনেত্রী হিসেবেই দেখেন। “যদি কোনও গল্প খুব ভাল লাগে, সময় করে নেবই,”— জানান তিনি।

তবে সিনেমা জগতের বদলে যাওয়া বাস্তবতা তাঁকে ভাবায়। সমাজমাধ্যমের যুগে তারকাদের রহস্য কমে গেছে বলে মনে করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আগে তারকাদের দেখতে হলে সিনেমাহলে যেতে হত। এখন তো সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাই সহজলভ্য। তাই ছবি হিট করানো আরও কঠিন।”

বাংলা ছবির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও তাঁর উদ্বেগ স্পষ্ট— “এখন বাংলা সিনেমা খড়কুটো ধরে বেঁচে আছে,” সোজাসাপ্টা মন্তব্য তাঁর।

বন্ধুত্ব, পরিবার আর নিজের সময়

রাজনীতিতে ব্যস্ত হলেও চলচ্চিত্র জগতের বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট। তিনি স্নেহভরে স্মরণ করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী–র কথা।

তবে পার্টি বা সামাজিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত যাওয়া তাঁর পছন্দ নয়। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ভারসাম্যের এক অনন্য যাপন

রাজনীতি, অভিনয়, সংসার আর কবিতা— চারটি জগতের মাঝেই নিখুঁত ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেন তিনি। দিনের শেষে তাঁর পরিচয় একটাই— সৃজনশীল মানুষ।

তাই এত ব্যস্ততার মাঝেও তাঁর কবিমন হারিয়ে যায় না। বরং নীরবে জানান দেয়— আলো, ক্যামেরা আর রাজনীতির মঞ্চের বাইরে এখনও বেঁচে আছে এক গভীর, সংবেদনশীল শিল্পী।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *