আফ্রিকা ঘিরে গুপ্তচর লড়াইয়ের ছায়া!
আফ্রিকাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপোড়েন আবারও আলোচনায়। সম্প্রতি রুশ গুপ্তচর সংস্থার একটি রিপোর্ট ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইমানুয়েল মাক্রোঁ-এর নির্দেশে আফ্রিকার বেশ কিছু প্রভাবশালী নেতাকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নাকি তৈরি করেছে ফ্রান্স। যদিও এই দাবির সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
কী বলছে রুশ রিপোর্ট?
রাশিয়ার বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা SVR-এর একটি তথাকথিত রিপোর্ট উদ্ধৃত করে রুশ সংবাদমাধ্যম Sputnik জানিয়েছে— আফ্রিকায় নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে প্যারিস। সেই লক্ষ্যেই নাকি ২২ জন রাজনৈতিক নেতার একটি ‘হিটলিস্ট’ তৈরি হয়েছে।
এই তালিকায় নাকি বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম রয়েছে, যাঁরা ফরাসি নীতির বিরোধী বলে মনে করা হচ্ছে।
আলোচনায় লিবিয়ার নেতা
রিপোর্টে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে সাইফ আল-ইসলাম গদ্দাফি-র নাম। তিনি ছিলেন প্রাক্তন লিবিয়া শাসক মুয়াম্মার গদ্দাফি-র ছেলে।
সম্প্রতি তাঁর রহস্যজনক হত্যাকাণ্ড ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় সরকারি ভাবে কোনও দেশের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
পশ্চিম আফ্রিকার অস্থিরতা
রুশ সূত্রে আরও দাবি, ইব্রাহিম ট্রায়োরে-সহ পশ্চিম আফ্রিকার কয়েকজন সামরিক শাসকও নাকি লক্ষ্যবস্তুতে রয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বুরকিনা ফাসো-তে একাধিক জঙ্গি হামলা, সেনাঘাঁটিতে আক্রমণ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে এসব হামলার পেছনে জঙ্গি সংগঠনগুলির হাত থাকার সম্ভাবনাই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে বেশি।
ফ্রান্স বনাম রাশিয়া: প্রভাবের লড়াই
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা। আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদ, সামরিক উপস্থিতি এবং কূটনৈতিক প্রভাব— সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ফ্রান্স।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে চেষ্টা করছে রাশিয়া। ফলে দুই শক্তির মধ্যে প্রভাব বিস্তারের লড়াই আরও তীব্র হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল— এই পুরো অভিযোগের কোনও স্বাধীন আন্তর্জাতিক যাচাই এখনও হয়নি। পশ্চিমি দেশগুলি এই দাবিকে ‘প্রচারযুদ্ধের অংশ’ বলেই মনে করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে তথ্যযুদ্ধ (information warfare) বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছে। ফলে এমন রিপোর্ট সামনে এলেও তা যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা কঠিন।
সারকথা
আফ্রিকাকে ঘিরে শক্তিধর দেশগুলির প্রতিযোগিতা নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ দেখিয়ে দিচ্ছে— ভূরাজনীতির এই দাবা খেলায় উত্তেজনা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। বাস্তবের তথ্য আর কূটনৈতিক প্রচারের সীমারেখা কোথায়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই