রাজনীতির মঞ্চে নির্যাতিতার মা!
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনার পর দীর্ঘ আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নির্যাতিতার মা এবার সক্রিয় রাজনীতিতে পা রেখেছেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি পানিহাটি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হওয়ায় নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচন লড়বেন, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে সংগঠনের সমর্থন বা আপত্তি জানানোর কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তাঁদের মতে, এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি করার বদলে বড় প্রশ্ন হওয়া উচিত— এমন পরিস্থিতি কেন তৈরি হল, যেখানে একজন শোকাহত মা মনে করছেন যে ন্যায়বিচার পেতে গেলে তাঁকে রাজনীতির পথে নামতে হবে?
সংগঠন আরও জানায়, এই আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শুরু হয়নি। বরং এটি ছিল সাধারণ মানুষের ক্ষোভের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ। নির্যাতিতার জন্য ন্যায়বিচারের দাবির পাশাপাশি, সমাজে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই বহু মানুষ পথে নেমেছিলেন।
তবে সংগঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরেছে। তারা বলেছে, তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্যাতিতার মাকে সমর্থন করা সম্ভব নয়— সে দল বিজেপি হোক বা অন্য কোনও দল। একই সঙ্গে তারা এ কথাও উল্লেখ করেছে যে, নির্যাতিতার মা হয়তো বিশ্বাস করছেন যে রাজনৈতিক ক্ষমতার মাধ্যমে তিনি ন্যায়বিচার আদায় করতে পারবেন। কিন্তু সংগঠনের মতে, কোনও রাজনৈতিক দল শর্তসাপেক্ষে ন্যায়বিচার দেবে— এই ধারণা বাস্তবসম্মত নয়, বরং তা অনেকটাই ‘সোনার পাথরবাটি’র মতো।
এই প্রসঙ্গে সংগঠন আরও বলেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নারী নির্যাতনের ঘটনায় রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে কেবল রাজনৈতিক শক্তির উপর নির্ভর করে ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে— এমন বিশ্বাসের পক্ষে তারা একমত নয়।
তবে এই কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেছে জুনিয়র ডাক্তারদের সংগঠন। তাদের মতে, একজন সন্তানহারা মায়ের মানসিক অবস্থা বোঝা সহজ নয়। তিনি কতটা অসহায় হলে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন, তা বাইরে থেকে বিচার করা কঠিন। তাই সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করার আবেদন জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে নির্যাতিতার পরিবারের একটি মন্তব্য নিয়েও প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সংগঠন। পরিবার থেকে বলা হয়েছিল, আন্দোলনকারীরা নাকি নিজেদের স্বার্থে আন্দোলন করেছিলেন। এই মন্তব্যে সংগঠনের সদস্যরা আঘাত পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, যারা দিন-রাত রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছেন, তারা কেউই ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, বরং ন্যায়বিচারের দাবিতেই আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় আবেগ, রাজনীতি এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন একসঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। আর সেই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে একদিকে নিরপেক্ষতা, অন্যদিকে মানবিকতা— দুই-ই বজায় রাখার চেষ্টা করেছে জুনিয়র ডাক্তারদের এই সংগঠন।