হলদিয়ার মঞ্চে মোদীর ‘মৎস্য-বার্তা’ কতটা তাৎপর্যপূর্ণ?
পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ময়দানে এবার এক অভিনব বিষয় উঠে এসেছে—মাছ! আর সেই ইস্যুকেই জোরদার করলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। হলদিয়ার জনসভায় প্রায় ৩৩ মিনিটের ভাষণের মধ্যে পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় তিনি ব্যয় করলেন শুধু মৎস্যচাষ, মৎস্যজীবী এবং বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কথা বলতে।
সম্প্রতি তৃণমূলের তরফে অভিযোগ উঠেছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির পাতে মাছ-মাংসের অভাব হতে পারে। এই অভিযোগকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে মোদীর বক্তব্য—“তৃণমূল ১৫ বছরে আপনাদের মাছই দিতে পারেনি, বাইরে থেকে আনতে হচ্ছে।” তাঁর কথায়, সমস্যাটা খাদ্যাভ্যাস নয়, উৎপাদনের ঘাটতি।
হলদিয়ার সভা থেকে তিনি তুলে ধরেন এক গুরুত্বপূর্ণ দিক—পশ্চিমবঙ্গের বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও মৎস্য উৎপাদনে স্বনির্ভরতা আসেনি। অথচ, দেশের অন্যান্য রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মাধ্যমে মাছ উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তাঁর দাবি, গত এক দশকে দেশের মোট মাছ উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
মোদী উদাহরণ হিসেবে বিহার ও অসমের কথা বলেন। আগে এই রাজ্যগুলিও মাছের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল ছিল, কিন্তু এখন তারা নিজেরাই উৎপাদন করে এবং অন্যত্র সরবরাহ করছে। তাঁর মতে, এই পরিবর্তনের পিছনে রয়েছে কেন্দ্রের উদ্যোগ, বিশেষ করে ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন যথাযথভাবে হয়নি, শুধুমাত্র নামের মধ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী’ শব্দটি থাকার কারণেই রাজ্য সরকার উদ্যোগ নিতে অনীহা দেখাচ্ছে।
এই বক্তব্যের মধ্যেই স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা ছিল—বিজেপি বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করতে চায় না, বরং মাছের জোগান বাড়াতে চায়। অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রচারকে তিনি ‘ভিত্তিহীন’ বলেই তুলে ধরেন।
প্রসঙ্গত, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিজেপি প্রার্থীদের প্রচারে মাছ একটি বড় ভূমিকা নিয়েছে। কেউ মাছ হাতে নিয়ে প্রচার করছেন, কেউ বাজারে গিয়ে মাছ কাটছেন—সবই এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে। এতদিন যা ছিল প্রচারের কৌশল, মোদীর ভাষণের পর তা যেন রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হল।
সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে মাছ এখন শুধুই খাদ্য নয়—একটি শক্তিশালী প্রতীক। আর সেই প্রতীককে কেন্দ্র করেই জমে উঠছে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?