পুতিন-জিনপিং-কিমের মঞ্চে ট্রাম্পের কটাক্ষ, ষড়যন্ত্রের অভিযোগও
বেজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কোয়্যারের লাল গালিচায় বুধবারের দৃশ্য যেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক নতুন বার্তা। মাঝখানে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, একপাশে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, আর অন্যপাশে উত্তর কোরিয়ার সর্বেসর্বা কিম জং উন। এই ছবিকে কেউ সৌহার্দ্যের প্রতীক বলছেন, কেউ আবার পশ্চিম বিশ্বের প্রতি চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এটি স্পষ্টতই আমেরিকার বিরুদ্ধে এক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে চিনের বিজয়ের স্মরণে আয়োজিত এই সামরিক কুচকাওয়াজের মঞ্চে তিন শক্তিধর নেতা একসঙ্গে দাঁড়ানোয় তৈরি হয় রাজনৈতিক ঝড়। ট্রাম্প নিজের স্বভাবসুলভ ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে জিনপিংকে কটাক্ষ করে বলেন, “আমার পক্ষ থেকে পুতিন এবং কিমকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়ে দিন।” একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, চিনা প্রেসিডেন্ট আমেরিকার বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে ষড়যন্ত্র করছেন।
চিনের এই বিজয়োৎসবের মঞ্চে আমেরিকার অনুপস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “চিনের গৌরব ফেরানোর জন্য বহু আমেরিকান প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের সাহসিকতা এবং আত্মত্যাগ যেন যথাযথ সম্মান পায়।” তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৩০-৪০-এর দশকে চিন-জাপান যুদ্ধে অসংখ্য চিনা সেনার মৃত্যু হয়েছিল। পরে ১৯৪১ সালের পার্ল হারবার হামলায় জাপানের আক্রমণে প্রাণ হারান ২,৪০০-রও বেশি মার্কিন সেনা। ইতিহাসের সেই ক্ষত আজও গভীরভাবে মনে করিয়ে দেয় চরম মূল্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার গল্প।
অন্যদিকে, জিনপিংও কম যাননি। বিজয়োৎসবের ভাষণ থেকে সরাসরি ট্রাম্পের নাম না করেও আমেরিকার উদ্দেশে বার্তা দেন তিনি। জিনপিং দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “চিন কখনও কোনও হুমকি বা গুন্ডামিতে ভয় পায় না। আমাদের অগ্রযাত্রা অপ্রতিরোধ্য।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে যায়, ওয়াশিংটনের চাপে চিন নতিস্বীকার করবে না।
উল্লেখযোগ্য, ট্রাম্পের শাসনকালে চিনের উপর কঠোর শুল্কনীতি আরোপের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ অবনতির দিকে যায়। এই পরিস্থিতিতেই বেজিং এক নতুন কৌশল নিয়েছে। মার্কিনবিরোধী অবস্থানে থাকা দেশগুলিকে পাশে টেনে একটি বিকল্প জোট গড়ার চেষ্টা চলছে। সদ্যসমাপ্ত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের মঞ্চও সেই দিকেই ইঙ্গিত দিয়েছে। সেখানে ভারতকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে চিন, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্দরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মস্কো, বেজিং ও পিয়ংইয়ং-এর এই নতুন মঞ্চে দাঁড়িয়ে যেন ভবিষ্যতের বিশ্বশক্তির মানচিত্র আঁকার ইঙ্গিত মিলছে। কেউ বলছেন, এটি কেবলই একটি সৌজন্যমূলক ছবি, আবার অনেকে দেখছেন এক বৃহৎ কৌশলের সূচনা। ট্রাম্পের মন্তব্য ও অভিযোগ অবশ্য এই ধারণাকে আরও উসকে দিয়েছে। একদিকে আমেরিকার নেতৃত্বে পশ্চিমী জোট, অন্যদিকে পুতিন-জিনপিং-কিমের সম্ভাব্য ঐক্য—এই টানাপোড়েন আগামী দিনে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ