ভিগান হওয়ার শখ থাকলেও পারলেন না!
ভিগান হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু জীবনের বাস্তবতা সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত হতে দেয়নি। বলিউড এবং টেলিভিশনের পরিচিত মুখ চাহত খন্না নিজের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বরাবরই খোলামেলা কথা বলেন। ৩৮ বছর বয়সেও যাঁর ছিপছিপে গড়ন সকলের নজর কাড়ে, তিনি জানালেন নিজের খাবার সংক্রান্ত নানা বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা।
চাহতের খাদ্যজীবনের শুরুটা নিরামিষ দিয়ে হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সেই অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, “আমি নিরামিষাশী, কিন্তু অনেক জায়গায় ভ্রমণে গিয়ে বুঝেছি যে, সেখানে নিরামিষ খাবার পাওয়া প্রায় অসম্ভব। সেই পরিস্থিতিতে ডিম খেয়ে নিই। কারণ, ডিম অন্তত একটি নিরাপদ এবং সহজলভ্য প্রোটিন উৎস।” এমন অভিজ্ঞতা যাঁর, তাঁর পক্ষে শতভাগ ভিগান হওয়া কঠিন—এ কথা বলাই বাহুল্য।
তবে চেষ্টা থেমে থাকেনি। চাহত বলেন, “আমি বারবার ভিগান হতে চেয়েছি। কিন্তু আমি পাঞ্জাবি, আমার রক্তে মাখন-ঘি মিশে আছে! দুধ, পনির, দই সব বাদ দিতে পারি, কিন্তু ঘি আমার পক্ষে একেবারে ছাড়া সম্ভব নয়। ওটা আমার জীবনের অংশ।”
চাহতের খাদ্য তালিকায় রাজত্ব করে ‘ক্লিন ডায়েট’। অর্থাৎ, এমন সব খাবার যেগুলি প্রাকৃতিক, প্রক্রিয়াজাত নয় এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর। প্রোটিন হিসাবে বেছে নেন মটরশুঁটি বা গাছজাত উৎস, আর প্রতিদিনের মেনু প্রস্তুত হয় প্রশিক্ষকের নির্দেশ মতো। তাঁর কথায়, “খাবারে কোনও ফাঁকি নেই। বাইরে গেলেও খাবারের অর্ডার নির্দিষ্ট—সতে করা সবজি, হালকা ভাজা কিছু হলে চলবে। আর যদি একদিন পরোটা বা পিৎজা খেতেই হয়, তা হলে সেটাও সীমিত পরিমাণে।”
চাহতের এক বিশেষ গুণ—তিনি প্লেটে অতিরিক্ত খাবার নেন না এবং খাবার নষ্ট করতেও রাজি নন। “খাবার অর্ডার দেওয়ার সময় আমার প্রথম নজরই থাকে পরিমাণে। পেটে যতটা জায়গা, ততটাই নিই। বেশি নিলে ফেলে দিতে হয়, সেটা আমি একেবারেই পছন্দ করি না।”
এই সংযম, এই খাদ্য সচেতনতা, এই আত্মনিয়ন্ত্রণই তাঁকে ৩৮ বছর বয়সেও এতটা ফিট এবং আত্মবিশ্বাসী রেখেছে। যাঁরা ভাবেন বয়স বাড়লে শরীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাঁদের জন্য চাহতের ডায়েট অভ্যাস একটি কার্যকর উদাহরণ।
চাহত যেমন অভিনয়ে ব্যস্ত, তেমনই তাঁর জন্য জীবন মানে ভ্রমণ এবং নতুন স্বাদে নিজেকে খুঁজে নেওয়া। কিন্তু সেই খোঁজে খাদ্যাভ্যাসকে বিসর্জন না দিয়ে কীভাবে সামঞ্জস্য বজায় রাখা যায়, তা তিনি শিখে নিয়েছেন।
ভিগান হওয়ার শখ শেষ পর্যন্ত পূর্ণ না হলেও, চাহতের নিজের শরীর, পছন্দ, এবং বাস্তবতার মধ্যে তৈরি করে নিয়েছেন এক অনন্য সমঝোতা—সুস্থ থাকার জন্য যা এক আদর্শ পথ।