রক্তে শর্করার ওঠানামা ঠেকাতে জানুন কোন ভঙ্গিতে বিশ্রাম নিরাপদ!
পেটভরে খেয়ে দুপুরে একটু ভাতঘুম কিংবা রাতের খাবারের পর বিছানায় টান টান হয়ে শুয়ে পড়া অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস। বিশেষত বর্ষার দিনে, এমন বিশ্রাম যেন আরও বেশি লোভনীয় হয়ে ওঠে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কিছু গবেষণা ও চিকিৎসকদের অভিমত বলছে, খাওয়ার পরে শরীরের ভঙ্গিমা যদি ভুল হয়, তবে তার প্রভাব পড়তে পারে রক্তে শর্করার মাত্রায়—যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি করতে পারে হার্ট, কিডনি, লিভার এমনকি অন্ত্রেরও।
বিশ্রামের ভঙ্গি ও রক্তে শর্করার সম্পর্ক কতটা যুক্তিসঙ্গত?
সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ভাইরাল এমন কিছু ভিডিয়ো যেখানে বলা হচ্ছে, খাবারের পর সম্পূর্ণ শুয়ে না থেকে যদি কেউ শরীরের উপরের অংশ ৩০-৪৫ ডিগ্রি কোণে হেলিয়ে রাখেন, তাহলে রক্তে শর্করার মাত্রা ততটা বাড়বে না। এই দাবির কতটা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে, তা নিয়ে মতামত দিয়েছেন একাধিক চিকিৎসক।
চিকিৎসকদের মত: সরাসরি নয়, ঘুরপথে সম্পর্ক
ডায়াবিটিস বিশেষজ্ঞ ডাঃ অমিতাভ সাহার মতে, বিশ্রামের ‘ভঙ্গি’ নয়, বরং খাওয়ার পর পরেই শুয়ে পড়া—সেটাই বড় সমস্যা। তাঁর ভাষায়, “খাবারের পর যেকোনও ধরনের নিষ্ক্রিয়তা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। এটি হজম প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে, ফলে গ্লুকোজ ভাঙতে দেরি হয়।”
এ প্রসঙ্গে জেনারেল মেডিসিন চিকিৎসক ডাঃ শ্রীনিবাস চারিও বলেন, “বিশ্রামের কোণ বা ভঙ্গি নিয়ে সরাসরি কোনও প্রমাণ নেই, তবে হেলান দিয়ে বসলে খাবার দ্রুত অন্ত্রে পৌঁছায়, যা পুষ্টি শোষণকে কার্যকর করে। এতে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধির সম্ভাবনা কিছুটা কমে যেতে পারে।”
অ্যাসিড রিফ্লাক্স কমলে হরমোন ঠিক থাকবে
আরও এক অভিজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ মনীষা অরোরা বলেন, খাওয়ার পর হালকা হেলানো ভঙ্গিতে বিশ্রাম নিলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমে, ঘুম ভাল হয়। আর ভালো ঘুম মানে হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে, যা বিপাকক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে। এর ফলেই নিয়ন্ত্রণে থাকে রক্তে শর্করার মাত্রা। ফলে এই সম্পর্কটা সরাসরি না হলেও পরোক্ষে গুরুত্বপূর্ণ।
কীভাবে রক্ষা করবেন নিজেকে?
রক্তে শর্করার অনিয়মিত ওঠানামা কেবল ডায়াবেটিসই নয়, মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলতে পারে হার্ট, কিডনি ও চোখের উপরও। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, খাবার পর অন্তত ৩০ মিনিট বিশ্রাম না নিয়ে ঘরের মধ্যে কিছুটা হাঁটাহাঁটি করা উচিত। বিশেষ প্রয়োজন না থাকলে এক ঘণ্টা পরে শুতে যাওয়াই ভালো।
খাবার পর সোফায় হেলান দিয়ে ফোন ঘাঁটা নয়, বরং সোজা হয়ে বসে থাকা বা একটু হাঁটাহাঁটি করুন। এতে খাবার ভালো হজম হবে এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও থাকবে নিয়ন্ত্রণে।