হেঁশেলে চিনির ঝাঁঝ!
কলকাতার বাজারে মাত্র দু’সপ্তাহের ব্যবধানে চিনির দাম কেজি-পিছু ৪৮ টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৭০ টাকায় পৌঁছেছে। ফলে মধ্যবিত্তের হেঁশেল থেকে মিষ্টির দোকান— সর্বত্রই বেড়েছে উদ্বেগ। উৎপাদন কমে যাওয়া, পশ্চিমবঙ্গের ভিন্রাজ্য নির্ভরতা এবং ইথানল উৎপাদন ঘিরে বিতর্ক— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
গত এক বছরে দেশে চিনি উৎপাদন প্রায় ২০ লক্ষ মেট্রিক টন কমেছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ মরসুমে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৭৩ লক্ষ মেট্রিক টন, আগের মরসুমে যা ছিল ২ কোটি ৯৩ লক্ষ মেট্রিক টন। জোগানে ঘাটতির আশঙ্কায় কেন্দ্রকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ লক্ষ টন চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতিও দিতে হয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে ই-২০ পেট্রলও। বিরোধীদের একাংশের দাবি, ইথানল উৎপাদনে আখ ও চিনির ব্যবহার বাড়ায় খাদ্যপণ্যের বাজারে চাপ পড়ছে। তবে কেন্দ্রের বক্তব্য, ইথানল তৈরিতে সরাসরি চিনির ব্যবহার বরং কমানো হয়েছে এবং বর্তমানে অধিকাংশ ইথানল তৈরি হচ্ছে ভুট্টার মতো দানাশস্য থেকে।
পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বড়। রাজ্যের বার্ষিক চিনির চাহিদা প্রায় ২০ লক্ষ টন হলেও স্থানীয় উৎপাদন ১ লক্ষ টনেরও কম। ফলে মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ ও কর্নাটকের মতো রাজ্যের উপর নির্ভর করতে হয়। সেখানে উৎপাদন বা দামে পরিবর্তন হলেই তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলার বাজারে।
আখ উৎপাদনও কমছে রাজ্যে। ২০২৩-২৪ সালে যেখানে প্রায় ১১ লক্ষ টন আখ উৎপাদিত হয়েছিল, পরের বছরে তা নেমে আসে প্রায় ৮.৮ লক্ষ টনে। উপরন্তু আখ থেকে মাত্র ৯-১০ শতাংশ চিনি পাওয়া যায়। ফলে স্থানীয় উৎপাদন দিয়ে চাহিদা মেটানো কার্যত অসম্ভব।
পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চিনিকল থেকে দাম বাড়লে পরিবহণ খরচ, কর এবং বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়িক মুনাফা যোগ হয়ে খুচরো বাজারে চিনির দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। অন্য দিকে, মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। তাঁদের দাবি, বিক্রির উপর প্রভাব পড়ছে, অথচ উৎসবের মরসুমের আগে মিষ্টির দাম বাড়ানোও সহজ নয়।
সব মিলিয়ে চিনির বাজারে এখন মূল প্রশ্ন একটাই— আমদানি ও সরকারি হস্তক্ষেপ কি দ্রুত দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে, নাকি উৎপাদনের ঘাটতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার চাপ আরও কিছু দিন গৃহস্থের হেঁশেলে চিনির জ্বালা বাড়িয়ে রাখবে?
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।