ইরানে ইজ়রায়েলের আকস্মিক হামলা!
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া। রাষ্ট্রপুঞ্জের পরমাণু সংস্থা আইএইএ ইরানের বিরুদ্ধে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে আন্তর্জাতিক সীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনার পরই, ইজ়রায়েল ঝটিকা বিমানহানা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেয় ইরানের একাধিক পরমাণু ও সামরিক ঘাঁটি। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান, আর পরিস্থিতির জেরে চাপে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।
অপারেশন ‘রাইজ়িং লায়ন’: কী ঘটল হঠাৎ?
বৃহস্পতিবার রাতেই ইজ়রায়েলি বিমানবাহিনী চালায় ‘অপারেশন রাইজ়িং লায়ন’। ২০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান আকাশপথে ঢুকে আঘাত হানে ইরানের অন্তত ছ’টি পরমাণু ও সেনাঘাঁটিতে। বহু সেনা আধিকারিক ও পরমাণু বিজ্ঞানীর মৃত্যুর খবর মিলেছে। যদিও ইরানের মূল ইউরেনিয়াম পরিশোধন কেন্দ্রগুলো বেঁচে গিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে, কারণ সেগুলি ভূগর্ভস্থ এবং কংক্রিটের দুর্ভেদ্য স্তরে ঘেরা।
তেহরানের পাল্টা বার্তা: যুদ্ধের প্রস্তুতি?
ইজ়রায়েলের হামলার জবাবে শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর কোম শহরের মসজিদের চূড়ায় লাল পতাকা ওড়ায় ইরান—যার অর্থ যুদ্ধ ঘোষণার বার্তা। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েকশিয়ান জানিয়ে দেন, ‘‘এই গল্পের শেষ পাতাটা আমরাই লিখব।’’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও—যুদ্ধ হলে পশ্চিম এশিয়ার সব মার্কিন ঘাঁটি ইরানের লক্ষ্যবস্তু হবে।
ট্রাম্পের দ্বিচারিতা?
অদ্ভুতভাবে, যেই পরমাণু চুক্তি নিয়ে এখন ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর প্রথম মেয়াদে সেই চুক্তিই তিনি বাতিল করেছিলেন। ২০১৫ সালে ওবামা-পর্বে সই হওয়া ঐতিহাসিক চুক্তি (JCPOA) ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি দিয়েছিল। ২০১৮ সালে ট্রাম্প একতরফা ভাবে চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে বলেন, ‘‘চুক্তিটি ছিল আমেরিকার জন্য ক্ষতিকর।’’
পরমাণু পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ?
আইএইএ-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান ৬০% বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদনে সফল হয়েছে, যা থেকে সীমিত শক্তির বোমা তৈরি সম্ভব। কিন্তু পরমাণু অস্ত্র বানাতে যে ৯০% পরিশোধন প্রয়োজন, তা এখনও ইরান অর্জন করেনি। তবুও, ২৭৫ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত ও সেন্ট্রিফিউজ নির্মাণ নিয়ে উদ্বিগ্ন আন্তর্জাতিক মহল।
সামরিক ভারসাম্য কার দিকে?
ইজ়রায়েল, সামরিক ও প্রযুক্তি শক্তিতে ইরানের থেকে অনেক এগিয়ে। ইরানের মিত্র হিজবুল্লা ও হামাসও ইজ়রায়েলি চাপে কোণঠাসা। সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনে এবং রাশিয়ার অনুপস্থিত সহায়তায় ইরান রাজনৈতিকভাবেও বেজায় দুর্বল। এই অবস্থায়, ইজ়রায়েলের উদ্দেশ্য যে কেবল পরমাণু কর্মসূচি থামানো নয়, বরং খামেনেই-শাসিত ইরান সরকারকে পতনের পথে ঠেলা, সেই সন্দেহ জোরালো হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ
ইজ়রায়েলের দূতাবাসগুলো ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায়। হামলার পক্ষে জোরাল অবস্থানে ট্রাম্প, কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি এবং দু’মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া চুক্তি আলোচনার জন্য চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে রাশিয়ার নিষ্ক্রিয়তা এবং আরব দেশগুলির দ্বিধায় ইরান কার্যত একা।
পশ্চিম এশিয়ায় এই অস্থিরতা শুধু দুই দেশের নয়—মাঝে পড়েছে গোটা বিশ্ব, আন্তর্জাতিক কূটনীতিও। ট্রাম্পের জন্য এটা এক তরফা সিদ্ধান্তের পাল্টা ধাক্কা, যার মূল্য চুকাতে হতে পারে দীর্ঘ মেয়াদে।
পাকা আমের স্বাদে অন্য রূপ! রুটির সঙ্গে জমবে এই ঝটপট আমের তরকারি