অটিজ়ম আক্রান্ত মেয়েকে নিয়ে আত্মঘাতী বাবা, পর্ণশ্রীতে মিলল ঝুলন্ত দেহ

অটিজ়ম আক্রান্ত মেয়েকে নিয়ে আত্মঘাতী ! অটিজ়মে আক্রান্ত ২২ বছরের মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন বাবা। চিকিৎসার খরচ, মেয়ের দেখভাল— সব মিলিয়ে চাপ সহ্য করতে না পেরে অবসাদের অন্ধকারে তলিয়ে…

March 1, 2025
0 min read

অটিজ়ম আক্রান্ত মেয়েকে নিয়ে আত্মঘাতী !

অটিজ়মে আক্রান্ত ২২ বছরের মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন বাবা। চিকিৎসার খরচ, মেয়ের দেখভাল— সব মিলিয়ে চাপ সহ্য করতে না পেরে অবসাদের অন্ধকারে তলিয়ে গেলেন তিনি। শুক্রবার বেহালার পর্ণশ্রীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বাবা ও মেয়ের ঝুলন্ত দেহ।

পুলিশ এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও এখনও পর্যন্ত তদন্ত চলছে। কী কারণে এই চরম সিদ্ধান্ত নিলেন বাবা সজন দাস, সেটাই এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

🔎 কী ঘটেছিল সেদিন?

👨‍👧 মৃতরা হলেন সজন দাস (৫৩) এবং তাঁর কন্যা সৃজা দাস (২২)।
🏠 পর্ণশ্রীর হো চি মিন সরণিতে নিজেদের বাড়ির একতলায় পাওয়া যায় তাঁদের ঝুলন্ত দেহ।
💼 সজন পেশায় ছিলেন গৃহস্থালির বিভিন্ন সরঞ্জাম মেরামতির ব্যবসায়ী।
🕗 রাত ৮টার দিকে থানায় ফোন করে মৃত্যুর খবর জানানোর পর ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ।
👩 সজনের স্ত্রী জলি দাস তখন বাড়িতেই ছিলেন।

🧩 তদন্তে কী জানা যাচ্ছে?

পুলিশ সূত্রে খবর, বাবা ও মেয়ের ঝুলন্ত দেহ পাখার হুকের সঙ্গে নাইলনের দড়িতে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।

🔹 মেয়ে সৃজা জন্ম থেকেই অটিজ়মে আক্রান্ত ছিলেন।
🔹 চিকিৎসার খরচ ক্রমশ বেড়ে চলছিল, যা নিয়ে সজন মানসিক চাপে ছিলেন।
🔹 পরিবারের আর্থিক অবস্থাও খুব একটা ভালো ছিল না।

শুক্রবার দুপুর ১২টা নাগাদ মেয়েকে নিয়ে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়েছিলেন সজন।
📞 ১টা ১৫ মিনিটে স্ত্রীকে ফোন করে জানান, তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছেছেন।
📞 কিন্তু বিকেলে স্ত্রী ফোন করলে আর সজন ধরেননি।

সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনও খোঁজ না পেয়ে চিন্তায় পড়ে যান সজনের স্ত্রী।
👨‍👩‍👦 রঞ্জিত কুমার সিংহ নামে এক পরিচিত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে দরজা উঁকি মেরে দেখেন ঝুলন্ত দেহ।
🚪 ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল না, যা আরও রহস্যজনক বলে মনে করছে পুলিশ।

💔 আর্থিক চাপই কি মৃত্যুর কারণ?

সজন দাসের আত্মীয় এবং প্রতিবেশীদের বক্তব্য অনুযায়ী—

🔸 বেশ কিছুদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি।
🔸 মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তা করতেন।
🔸 চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি।

তবে আত্মহত্যার পেছনে শুধুই আর্থিক সংকট, নাকি আরও কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

⚖️ তদন্তের অগ্রগতি

✅ দেহদুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
✅ পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
✅ মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও শেষ মুহূর্তের কথোপকথন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন—
❝ ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, আর্থিক চাপ ও মানসিক অবসাদ থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে আমরা নিশ্চিত হতে চাই, তাই সব দিক থেকেই তদন্ত চালানো হচ্ছে। ❞

📌 ট্যাংরাকাণ্ডের ছায়া?

এই ঘটনা কিছুদিন আগেই ঘটে যাওয়া ট্যাংরার ঘটনার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

🔹 ট্যাংরার এক পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়।
🔹 তিনজনের দেহ বাড়িতে পাওয়া যায়, অন্য তিনজন বাইপাসের ধারে “দুর্ঘটনার” শিকার হন।
🔹 সেই মামলাও এখনো তদন্তাধীন।

পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে— পর্ণশ্রীর ঘটনাতেও কি একই ধরনের আর্থিক সংকট দায়ী?

❗ সমাজের বার্তা: মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন জরুরি

এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের একটি কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড় করায়— মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা ও সহায়তা কতটা জরুরি।

🔹 পরিবারের কারও আচরণে যদি অতিরিক্ত চাপ বা অবসাদের লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে দ্রুত সাহায্য নেওয়া উচিত।
🔹 চিকিৎসা ব্যয়, আর্থিক সংকট বা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগা ব্যক্তির পাশে থাকা জরুরি।
🔹 যে কোনও সংকটের মধ্যে আত্মহত্যা কখনই সমাধান হতে পারে না, সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে মানুষকে সহায়তা করার জন্য।

👉 যদি কোনও ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকেন, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

🚨 যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ মানসিক চাপ বা অবসাদে ভুগে থাকেন, দয়া করে সাহায্য নিন। আপনার জীবন মূল্যবান।

৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল নেপাল, কম্পন অনুভূত শিলিগুড়িতেও! আতঙ্কে রাত কাটালেন বাসিন্দারা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *