১১০ বছরে বিয়ে, শেষ বয়সেও বাবা!!
দুই বিশ্বযুদ্ধ, সৌদি আরবের জন্ম, তেলসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে রূপান্তর—সবই নিজের চোখে দেখেছেন তিনি। ১৪২ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন সৌদি আরবের সবচেয়ে দীর্ঘজীবী নাগরিক হিসেবে পরিচিত শেখ নাসের বিন রাদ্দান আল রশিদ আল ওয়াদাই। রবিবার, ১১ জানুয়ারি, রিয়াধে বার্ধক্যজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই সৌদি আরব-সহ গোটা পশ্চিম এশিয়ায় নেমে আসে শোকের ছায়া।
নাসেরের জন্ম আনুমানিক ১৮৮৩-’৮৪ সালের মধ্যে, দক্ষিণ সৌদি আরবের দাহরান আল জানুব এলাকায়। তখনও সৌদি আরব নামে কোনও স্বাধীন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব নেই। ১৯৩২ সালে সৌদি আরবের জন্মের অনেক আগেই পৃথিবীতে এসেছিলেন তিনি। তাই এক অর্থে বলা যায়, আধুনিক সৌদি আরবের ইতিহাসের জীবন্ত দলিল ছিলেন শেখ নাসের।
শৈশবে মরুভূমির ধুলো, যৌবনে রাজনৈতিক পালাবদল, মধ্য বয়সে অর্থনৈতিক উত্থান—সৌদির প্রতিটি পরিবর্তনের নীরব সাক্ষী ছিলেন তিনি। প্রতিষ্ঠাতা বাদশা ইবনে সৌদ থেকে শুরু করে বর্তমান বাদশা সলমন—একাধিক শাসকের শাসনকাল দেখেছেন নাসের। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপোড়েন এবং দুই বিশ্বযুদ্ধের ছায়াও তাঁর জীবনের উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে।
কর্মসূত্রে যুবক বয়সে তাঁকে নিয়মিত ইয়েমেনে যেতে হত। তখন এই যাতায়াত ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। জীবনের শেষ পর্বে তিনি স্থানীয় সমাজে ধর্মীয় ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। বহু মানুষ শুধু তাঁর সঙ্গে দেখা করতে, আশীর্বাদ নিতে ভিড় করতেন তাঁর বাড়ির সামনে।
সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, জীবনে ৪০ বারেরও বেশি হজ পালন করেছিলেন নাসের। শেষ বয়সেও শারীরিক ও মানসিক ভাবে ছিলেন যথেষ্ট সক্রিয়। নিয়ম মেনে জীবনযাপন, সংযমী খাদ্যাভ্যাস আর শৃঙ্খলাই নাকি তাঁর দীর্ঘায়ুর মূল রহস্য—এমনটাই জানিয়েছে তাঁর পরিবার।
তবে শেখ নাসেরকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে। একাধিক বিয়ে করেছিলেন তিনি। শেষ বিয়ে করেন ১১০ বছর বয়সে। সেই বিয়ের পর তাঁর ঘরে আসে কন্যাসন্তানও। শতাধিক বয়সে পিতৃত্ব—এই খবর সে সময় পশ্চিম এশিয়ার সংবাদমাধ্যমে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছিল।
মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি ছিলেন এক বিশাল পরিবারের প্রধান। তাঁর সন্তান, নাতি-নাতনি, প্রপৌত্র-প্রপৌত্রী মিলিয়ে পরিবারের সদস্যসংখ্যা প্রায় ১৫০ জন। এত বড় পরিবারকে এক সুতোয় বেঁধে রাখার ক্ষমতাই তাঁকে স্থানীয়দের কাছে আরও শ্রদ্ধেয় করে তুলেছিল।
গত কয়েক দিন ধরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন নাসের। বিছানা থেকে উঠতেও পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত রবিবার ভোরে তাঁর জীবনাবসান হয়। রিয়াধে তাঁর শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন বহু রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব। দাহরান আল জানুব গ্রামে অন্তিমযাত্রায় যোগ দেন প্রায় সাত হাজার মানুষ। নিজের বাড়ির কাছেই তাঁকে সমাহিত করা হয়।
১৪২ বছরের এই দীর্ঘ জীবন শুধু বয়সের হিসেব নয়, ইতিহাসেরও এক নীরব সাক্ষ্য। শেখ নাসের যেন সময়কে হার মানিয়ে দেখিয়ে গেলেন—মানুষ চাইলে শতাব্দীর পর শতাব্দী ছুঁয়ে যেতে পারে স্মৃতির পাতায়।
‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা