হৃদ্রোগ আর বয়সের হিসাব মানে না!
একটা সময় ছিল যখন মনে করা হতো হৃদ্রোগ কেবলমাত্র বয়স্কদের সমস্যা। কিন্তু এখন বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। তরুণ থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষের মধ্যেই হৃদ্রোগের প্রকোপ বাড়ছে। তবে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলেই এই প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সম্প্রতি এইচ পি ঘোষ হাসপাতালের কার্ডিয়োলজি ও ইন্টারভেনশনাল বিভাগের কনসালটেন্ট চিকিৎসক হেমা মালথি রথ আনন্দবাজার অনলাইনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হৃদ্রোগের কারণ ও প্রতিরোধ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন।
হৃদ্রোগের প্রধান কারণ কী?
১. ধূমপান:
বর্তমান প্রজন্মের অনেকের কাছেই ধূমপান স্বাভাবিক একটি অভ্যাস হয়ে উঠেছে। কিন্তু চিকিৎসক হেমা মালথি রথ জানাচ্ছেন, “ধূমপান হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান কারণ, যা যে কোনও বয়সে ঘটতে পারে। শুধু সিগারেটই নয়, যে কোনও তামাকজাত পণ্য—যেমন খৈনি, গুটখা, পানমশলা ইত্যাদিও সমান ক্ষতিকর।”
২. মানসিক চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনধারা:
বর্তমান জীবনের চাপে আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন রুটিন একেবারে বদলে গেছে। অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত স্ট্রেস, অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ—সব মিলিয়ে হৃদ্রোগের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।
৩. শরীরচর্চার অভাব:
কর্মব্যস্ত জীবনে শরীরচর্চার সময় বের করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। চিকিৎসক হেমা মালথি বলেন, “প্রতিদিন শরীরচর্চার সময় না পেলে অন্তত সপ্তাহে ১৫০ মিনিট হাঁটার চেষ্টা করুন। এটি হৃদ্রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।”
কেন হয় হার্ট অ্যাটাক?
আমাদের হৃদপিণ্ড বিভিন্ন শিরা-উপশিরা দ্বারা ঘেরা। যখন অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা ও অন্যান্য কারণের ফলে শিরাগুলোর ভেতরে চর্বি বা রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে, তখন রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয়। একসময় সম্পূর্ণ ব্লকেজ তৈরি হলে হার্ট অ্যাটাক হয়, যা মারাত্মক হতে পারে।
কোন কোন লক্ষণকে অবহেলা করবেন না?
হৃদ্রোগের উপসর্গগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—
✔ শ্বাসকষ্ট
✔ সামান্য পরিশ্রমেই বুকে ব্যথা
✔ বুকে চাপ অনুভব করা
✔ হাঁটতে বা দৌড়াতে সমস্যা
✔ হজমের সমস্যা বা গ্যাসের অনুভূতি
যদি এরকম উপসর্গ দেখা দেয়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং ‘ইসিজি’ করিয়ে নিন।
জরুরি পরিস্থিতিতে কী করবেন?
✔ রোগীকে দ্রুত কোনো উন্নত হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে ‘ক্যাথল্যাব’ সুবিধা আছে।
✔ বুকে ব্যথা শুরু হওয়ার প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই চিকিৎসা শুরু করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
✔ বেলুন, স্টেন্ট বা অন্যান্য আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।
সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন
হৃদ্রোগ প্রতিরোধের সেরা উপায় হলো সুস্থ জীবনধারা মেনে চলা। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান এড়িয়ে চলা এবং মানসিক চাপ কমানো—এই ছোট ছোট অভ্যাস গড়ে তুললেই হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ইউক্রেনকে আর সামরিক সাহায্য নয়! ট্রাম্পের কড়া বার্তা, চাপে জেলেনস্কি