ইরানের বিরুদ্ধে গোপন হামলায় নামল আমিরশাহি?
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে এত দিন নিজেদের অনেকটাই নিরপেক্ষ রাখার চেষ্টা করছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই)। কিন্তু ইরানের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গোপনে ইরানের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে আমিরশাহি। যদিও আবু ধাবি সরকারি ভাবে এই অভিযোগ স্বীকার করেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ এপ্রিল পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপে অবস্থিত একটি ইরানি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। সেই হামলার জেরে ভয়াবহ আগুন লাগে এবং পরিশোধন কেন্দ্রটি দীর্ঘ সময়ের জন্য অচল হয়ে পড়ে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়েই এই অভিযান চালানো হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনার পর ইরান জানায়, “শত্রুপক্ষের হামলায়” আগুন লেগেছে। তবে তারা সরাসরি আমিরশাহির নাম নেয়নি। এখানেই আরও জোরালো হয়েছে জল্পনা। বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগের মার্কিন-ইজ়রায়েলি হামলায় অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেই সুযোগে পশ্চিমি প্রযুক্তির ‘স্টেলথ’ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে অভিযান চালানো সম্ভব হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, এত দিন সংঘাত এড়িয়ে চলা ইউএই হঠাৎ আক্রমণাত্মক হল কেন? এর উত্তর খুঁজতে গেলে সাম্প্রতিক কয়েক মাসের ঘটনাগুলির দিকে তাকাতে হয়। আমিরশাহির অভিযোগ, ইরানের আধাসেনা বাহিনী আইআরজিসি তাদের বিভিন্ন শহর, বিমানবন্দর, তেল পরিকাঠামো এবং এমনকি দুবাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিকেও নিশানা করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে দেশটি।
বিশেষ করে দুবাইয়ের পর্যটন শিল্প এবং তেল রফতানি পরিকাঠামোতে ধাক্কা লাগে। ফুজ়াইরাহ তেল টার্মিনালের ক্ষতি, বিমানবন্দরে হামলা এবং তথ্যভান্ডারে ড্রোন আছড়ে পড়ার মতো ঘটনায় চাপ বাড়ছিল আবু ধাবির উপর। ফলে “আর চুপ করে মার খাওয়া নয়” — এই মনোভাব থেকেই আমিরশাহি পাল্টা পদক্ষেপ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এদিকে পশ্চিমি কূটনৈতিক মহলের ধারণা, আমেরিকারও পরোক্ষ সমর্থন থাকতে পারে এই অভিযানের পিছনে। কারণ, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আরব রাষ্ট্রগুলিকে ইরানের বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় হওয়ার বার্তা আগেই দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও পেন্টাগন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি।
শুধু আমিরশাহিই নয়, সৌদি আরবও নাকি গোপনে ইরানে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স। যদিও রিয়াধও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ, এত দিন ইরান বনাম ইজ়রায়েল-আমেরিকার সংঘর্ষে আরব রাষ্ট্রগুলি সরাসরি জড়াতে চাইছিল না। কিন্তু এখন যদি আমিরশাহি ও সৌদি আরব সক্রিয় ভাবে যুদ্ধে নেমে পড়ে, তা হলে গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও।
স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা