শারদ উপহারে চমক: অনুদান বাড়িয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা, বিদ্যুৎ বিলেও ৮০ শতাংশ ছাড়!

শারদ উপহারে চমক! এই বছর দুর্গাপুজো উদ্যোক্তাদের জন্য আরও বড় সুখবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বছরের অনুদান ছিল ৮৫ হাজার টাকা, যা বাড়িয়ে এবার করা হল ১ লাখ ১০…

August 1, 2025
1 min read

শারদ উপহারে চমক!

এই বছর দুর্গাপুজো উদ্যোক্তাদের জন্য আরও বড় সুখবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বছরের অনুদান ছিল ৮৫ হাজার টাকা, যা বাড়িয়ে এবার করা হল ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। সঙ্গে থাকছে বিদ্যুৎ বিলে ৮০ শতাংশ ছাড়—দু’দিক থেকেই বড়সড় আর্থিক স্বস্তি পেল রাজ্যের হাজার হাজার পুজো কমিটি।

বৃহস্পতিবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পুজো কমিটিগুলোর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই ঘোষণা করেন। বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তারা ও বিভিন্ন পরিষেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “উৎসব শুধু আনন্দ নয়, এটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীকও। সরকার সব দিক থেকে সহযোগিতা করবে, তবে পুজোর সময় নিরাপত্তার বিষয়টিও যেন যথাযথভাবে রক্ষা করা হয়।”

পুজো আয়োজকদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী আরও কিছু নির্দেশ দিয়েছেন:

  • প্রতিটি মণ্ডপে ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি রাখতে হবে।
  • প্রবীণ নাগরিক ও মহিলাদের সুবিধা ও নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ নজর দিতে হবে।
  • ভিড় সামলাতে আলাদা প্রবেশ ও বাহিরের পথ রাখতে হবে।
  • প্রত্যেক মণ্ডপে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম রাখতে হবে।
  • ভিনদেশি দর্শনার্থীদের সম্মান রক্ষা করতে হবে।
  • বাড়তি গাড়ি ও মেট্রো পরিষেবা চালুর ব্যবস্থা করতে হবে যাতে রাতেও মানুষ সহজে বাড়ি ফিরতে পারেন।
  • প্রতিটি পুজোমণ্ডপে অ্যাম্বুল্যান্স ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

এছাড়াও, মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২, ৩ ও ৪ অক্টোবর হবে প্রতিমা বিসর্জনের দিন এবং ৫ অক্টোবর কলকাতায় আয়োজন করা হবে বিশেষ পুজো কার্নিভালের।

অনুদান বাড়ানোর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে—এই অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলি। তাদের মতে, সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় এই বাড়তি অনুদান পুজো কমিটিগুলিকে তৃণমূলপন্থী করে তোলার চেষ্টা। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষ, “১ লাখ ১০ কেন, ২ লাখ ১০ দিন! কিন্তু আগে সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ দিন, শূন্যপদ পূরণ করুন।”

পাল্টা শাসক দলের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান বাংলার সংস্কৃতিকে আরও বিস্তৃত করা হোক, এবং উৎসব তার অন্যতম পথ। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই বার্তাকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে চান মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রথমবার পুজো কমিটিগুলিকে ১০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া শুরু করে রাজ্য সরকার। তারপর প্রতি বছরই বেড়েছে অনুদানের পরিমাণ। করোনার সময় তা লাফিয়ে পৌঁছায় ৫০ হাজারে। গত বছর ছিল ৮৫ হাজার, আর এবার তা পৌঁছাল ১ লাখ ১০ হাজারে।

বহু পুজো কমিটি এই অনুদানকে তাদের প্রধান ভরসা বলে মনে করে। দামি জিনিসপত্র ও সার্বিক খরচ বৃদ্ধির কারণে সরকারের এই আর্থিক সহায়তা তাদের কাছে সত্যিই বড় উপহার। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ছাড়ের সুবিধা দেবে CESC ও রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন পর্ষদ। এর ফলে খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশাবাদী পুজো আয়োজকরা।

এখন দেখার বিষয়, গত বছর যারা আরজি কর আন্দোলনের প্রতিবাদে অনুদান ফেরত দিয়েছিলেন, এবার তারাও এই সুবিধা গ্রহণ করেন কি না।

সুনামির আতঙ্কে থমকে নেই লিভারপুলের জাপান সফর, মারিয়ানোসের বিরুদ্ধে জয়ের আনন্দ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *