খোদ সাংসদের বাড়িতে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ
উত্তরপ্রদেশের সম্ভল থেকে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জিয়া উর রহমান বর্কের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, সাংসদ তাঁর বাড়িতে বিদ্যুৎ চুরি করে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ চালিয়ে রেখেছেন। এই ঘটনায় বিদ্যুৎ দফতর তাঁকে ১.৯১ কোটি টাকা জরিমানা করেছে।
বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা বৃহস্পতিবার সাংসদের বাড়িতে গিয়ে মিটার রিডিংসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করেন। সেখানে তাঁরা জানতে পারেন, সাংসদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগের লোড অনুমানিক ২ কিলোওয়াটের পরিবর্তে প্রায় আট গুণ বেশি, অর্থাৎ ১৬.৫ মেগাওয়াট। নতুন স্মার্ট মিটার বসানোর পরেও লোডের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে ৫.৫ কিলোওয়াট পৌঁছেছে।
সাংসদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের বাড়িতে ১০ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল এবং ৫ কিলোওয়াটের জেনারেটর রয়েছে, যার কারণে তাঁরা ১৯ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে সক্ষম। তবে বিদ্যুৎ দফতরের সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার জানিয়েছেন, সোলার প্যানেলগুলো কাজ করছে না, ফলে বিদ্যুতের অতিরিক্ত ব্যবহার বৈধ নয়।
এছাড়াও, সাংসদের বাড়িতে বেশ কিছু ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫০টি এলইডি বাল্ব, একটি ডিপ ফ্রিজার, তিনটি স্প্লিট এসি, দুটি ফ্রিজ, একটি কফি মেকার, একটি গিজার এবং একটি মাইক্রোওভেন। এসবের মোট বৈদ্যুতিক লোড ১৬,৪৮০ কিলোওয়াট। এমনকি, গত ছয় মাস ধরে সাংসদের বাড়িতে বিদ্যুতের বিল শূন্য এসেছে, অর্থাৎ তারা বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জিয়া উর রহমান বর্কের বিরুদ্ধে অ্যান্টি-পাওয়ার থেফ্ট অ্যাক্টে এফআইআর রুজু করা হয়েছে এবং তাঁর বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
এদিকে, তদন্ত চলাকালীন সাংসদের বাবা, মামলুর উর রহমান রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীদের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে, তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল সৃষ্টি হয়েছে।
সাংসদ জিয়া উর রহমান বর্ক নিজে জেলা বিদ্যুৎ কমিটির চেয়ারম্যানও। ফলে বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ এবং তদন্তের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। বিরোধীরা দাবি করেছেন, এই ঘটনায় সরকারের উদাসীনতা এবং বিদ্যুৎ চুরির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের অভাব ফুটে উঠেছে।
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সমাজবাদী পার্টি এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানালে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলও মঞ্চে এসে আলোচনায় অংশ নিয়েছে। এদিকে, বিদ্যুৎ দফতর এই অভিযোগের তদন্ত আরও গভীরভাবে চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই ঘটনাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত বা স্থানীয় সমস্যা হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি রাজ্যের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের উপরও বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন ফেলেছে। এর পরবর্তী ফলাফল কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে।