বিদ্যুৎ না থাকায় থমকে নিয়োগ, বিপাকে হাওড়ার ৬৫০ স্কুল!
টাকা নেই, তাই বিদ্যুৎ বিলও মেটানো যায়নি—আর সেই কারণেই অন্ধকারে ডুবে গেল হাওড়ার জেলা স্কুল পরিদর্শকের (ডিআই) অফিস। প্রশাসনিক এই অচলাবস্থা শুধু একটি দফতরের সমস্যা নয়, এর প্রভাব পড়ছে জেলার প্রায় ৬৫০টি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়ার উপরও।
হাওড়া থানার কাছেই একটি ভবনের চতুর্থ তলায় অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ দফতর। এখান থেকেই জেলার স্কুল সংক্রান্ত অধিকাংশ প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হয়। কিন্তু গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৪৭ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় অবশেষে ২৫ মার্চ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা।
দফতরের এক কর্মীর কথায়, এমন পরিস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি। প্রবীণ আধিকারিকরাও স্মরণ করতে পারছেন না, এই অফিসে বিদ্যুৎ না থাকার মতো নজির আগে ঘটেছে কি না।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, একই ভবনের অন্য দফতরগুলিতে বিদ্যুৎ থাকলেও মাধ্যমিক স্তরের জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিসই শুধুমাত্র অন্ধকারে। ফলে কাজের চাপ থাকা সত্ত্বেও কার্যত হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রয়েছেন কর্মীরা।
এই সময়টাতেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের অধীনে নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সেলিং চলছে। শূন্যপদের তালিকা যাচাইয়ের কাজও জোরকদমে এগোচ্ছে। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় কম্পিউটার, ইন্টারনেট—সবই অচল। ফলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই থেকে শুরু করে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া কার্যত থমকে গিয়েছে।
এর পাশাপাশি রয়েছে নিয়মিত প্রশাসনিক কাজ—শিক্ষকদের পরিষেবা সংক্রান্ত ফাইল, বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থের হিসাব, পড়ুয়াদের ট্যাবের টাকা বিতরণের মতো দায়িত্ব। নির্বাচনের অতিরিক্ত কাজের চাপ তো রয়েছেই। এই সব মিলিয়ে দফতরের উপর চাপ ছিলই, তার উপর বিদ্যুৎ না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
গরমের মধ্যে বিদ্যুৎহীন অফিসে বসে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে কর্মীদের জন্য। সারাদিন ঘামতে ঘামতে কোনওমতে সময় কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় অনেক জরুরি কাজই করা যাচ্ছে না।
সূত্রের খবর, বিষয়টি রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতরের নজরে আনা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধান মেলেনি। কর্মীদের একাংশের দাবি, দফতর থেকে জানানো হয়েছে যে তহবিলে পর্যাপ্ত টাকা নেই, তাই বিল মেটানো সম্ভব হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—এ ভাবে কি প্রশাসনিক কাজ চালানো সম্ভব? শিক্ষা ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এমন অচলাবস্থা কতটা প্রভাব ফেলবে?
শেষ পর্যন্ত সমস্যার সমাধানে জেলাশাসকের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছেন কর্তৃপক্ষ। সেখান থেকে আর্থিক সাহায্য মিললে হয়তো দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে—এই আশাতেই দিন গুনছেন কর্মীরা।
তবে ততদিন পর্যন্ত হাওড়ার শিক্ষা প্রশাসন কার্যত অন্ধকারেই।