বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট ছাড়াই জীবনযাপন: অন্ধ্রপ্রদেশের ঐতিহ্যবাহী কুর্মা গ্রাম

বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট ছাড়াই জীবনযাপন স্বাধীনতার ৭৫ বছর পেরিয়ে গেলেও, আধুনিক ভারতের এক কোণে এখনও রয়ে গেছে এমন একটি গ্রাম যেখানে বিদ্যুৎ কিংবা ইন্টারনেটের কোনও ব্যবহার নেই। এই গ্রাম অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্মা গ্রাম,…

December 23, 2024
1 min read

বিদ্যুৎ-ইন্টারনেট ছাড়াই জীবনযাপন

স্বাধীনতার ৭৫ বছর পেরিয়ে গেলেও, আধুনিক ভারতের এক কোণে এখনও রয়ে গেছে এমন একটি গ্রাম যেখানে বিদ্যুৎ কিংবা ইন্টারনেটের কোনও ব্যবহার নেই। এই গ্রাম অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্মা গ্রাম, যা শ্রীকাকুলাম শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রাচীন পদ্ধতি মেনেই এখানে জীবনযাপন করেন গ্রামবাসীরা, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তাঁদের জীবনের অংশ নয়।

বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ছাড়া গ্রাম

বর্তমান যুগে বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট ছাড়া জীবন কল্পনা করা কঠিন। শিক্ষা, চিকিৎসা, সরকারি পরিষেবা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার প্রায় সবকিছুই এই দুই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। তবে কুর্মা গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে এই চাহিদাগুলি একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক। তাঁরা মনে করেন, বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট তাঁদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রাকে নষ্ট করবে। তাই ইচ্ছাকৃতভাবেই তাঁরা এই দুই প্রযুক্তি থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন।

কুর্মা গ্রামের বাসস্থানের বিবরণ

কুর্মা গ্রামের প্রতিটি বাড়ি তৈরি হয়েছে চুন এবং কাদা দিয়ে, যা স্থানীয় ভাষায় ‘পেনকুটিল্লু’ নামে পরিচিত। প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে একটি বড় হলঘর, তার পাশে একটি কুয়ো (‘নাইয়া’), যা জল সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়।

হলঘরের ডান দিকে থাকে একটি পুজোর ঘর এবং তার পাশেই রান্নাঘর। রান্নাঘরগুলি কাঠের উনুন এবং মাটির পাত্র দিয়ে সজ্জিত। হলের বাঁ দিকে দু’টি শোওয়ার ঘর থাকে, যেখানে মাটির তৈরি ছোট কুটুরি রয়েছে জামাকাপড় এবং অন্যান্য জিনিসপত্র রাখার জন্য।

মাটি ও গোবর মিশিয়ে ঘরের মেঝে এবং দেয়াল পরিষ্কার করা হয়। গ্রামবাসীদের মতে, গোবর ব্যবহারে বাড়ির মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব কম থাকে। এই পরিষ্কার পদ্ধতি প্রতি সপ্তাহে একবার করে অনুসরণ করা হয়।

পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা

কুর্মা গ্রামে শৌচকর্ম এবং স্নানের জন্য পৃথক ঘর রয়েছে। এখানকার বাসিন্দারা পচনশীল বর্জ্য থেকে বিশেষ ধরনের ছাই তৈরি করেন, যা সার হিসাবে ব্যবহৃত হয়। তাঁরা সম্পূর্ণরূপে পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রা অনুসরণ করেন এবং নিজেদের ঐতিহ্য বজায় রাখার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

আধুনিকতার প্রতি বিরোধিতা

গ্রামের মানুষদের মতে, বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট আধুনিক জীবনের এমন উপাদান যা তাঁদের ঐতিহ্যবাহী এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রাকে হুমকির মুখে ফেলবে। তাঁরা মনে করেন, আধুনিক প্রযুক্তি প্রবেশ করলে গ্রামে বিশৃঙ্খলা এবং নতুন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হবে। এই বিশ্বাসের কারণেই তাঁরা বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেটকে গ্রামে ঢুকতে দেননি।

সরকারের উদ্যোগ এবং গ্রামবাসীদের মতামত

ভারতের সরকার গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার জন্য বহু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে কুর্মা গ্রামের বাসিন্দারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁরা আধুনিকতার কোনও পরিষেবা চান না। তাঁদের মতে, এই পরিষেবাগুলি তাঁদের জীবনে অপ্রয়োজনীয়।

উপসংহার

কুর্মা গ্রাম শুধুমাত্র ভারতের একটি সাধারণ গ্রাম নয়, এটি একটি জীবন্ত উদাহরণ যেখানে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে মেলবন্ধন করে জীবনযাপন করছে। বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট ছাড়াও কীভাবে জীবনযাপন সম্ভব, তা এই গ্রাম আমাদের শেখায়। এই গ্রামের ঐতিহ্য এবং জীবনযাত্রা সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতীক।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *