মার্কিন অর্থনীতির মন্দার আশঙ্কা: ট্রাম্প কি সঠিক পথে?

মার্কিন অর্থনীতির মন্দার আশঙ্কা! মার্কিন অর্থনীতি কি সত্যিই মন্দার মুখে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও দ্বিধাগ্রস্ত। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন যে…

March 10, 2025
0 min read

মার্কিন অর্থনীতির মন্দার আশঙ্কা!

মার্কিন অর্থনীতি কি সত্যিই মন্দার মুখে? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও দ্বিধাগ্রস্ত। সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন যে আমেরিকার অর্থনীতি একটি পরিবর্তনশীল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তবে তিনি এটাও দাবি করেছেন যে তাঁর নতুন শুল্কনীতি আসলে দেশটির হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধার করার জন্য নেওয়া একটি বড় পদক্ষেপ। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের অনেকেই মনে করছেন, ট্রাম্পের এই নীতিই আমেরিকাকে অর্থনৈতিক মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

শুল্কযুদ্ধ: কে বন্ধু, কে শত্রু?

ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল শুল্ক আরোপ। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি একের পর এক দেশের বিরুদ্ধে শুল্ক চাপাচ্ছেন। প্রথমে তিনি প্রতিবেশী কানাডা এবং মেক্সিকোর পণ্যে ২৫% শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছিলেন। পরে অবশ্য এই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়। কিন্তু চিনের পণ্যের উপর তিনি দ্বিগুণ শুল্ক আরোপ করেছেন, যার ফলে চিনও পাল্টা শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের উপর।

এছাড়াও, ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে যেসব দেশ আমেরিকার পণ্যে চড়া হারে শুল্ক নেয়, তাদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আমেরিকার শেয়ারবাজারেও। বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন, ব্যবসায়ীরাও চিন্তিত।

জিনিসপত্রের দাম ও বাজারের অবস্থা

ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চলমান উত্তেজনার ফলে আমেরিকায় বিভিন্ন পণ্যের দাম ক্রমশ বাড়ছে। চিন, কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে শুল্কবৃদ্ধির ফলে আমেরিকার সাধারণ নাগরিকরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বেশি অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে ভোক্তাদের ব্যয় করার ক্ষমতা কমছে, যা অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

শেয়ারবাজারেও এই নীতির প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন সংস্থার শেয়ারের দাম ওঠানামা করছে, ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে আগামী দিনে আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারে আমেরিকার অর্থনীতি।

মন্দার সম্ভাবনা ও সরকারি প্রতিক্রিয়া

অর্থনীতিবিদদের মতে, মন্দার পূর্বাভাস স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। আমেরিকার মতো বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যদি মন্দার মুখে পড়ে, তাহলে তা গোটা বিশ্ব অর্থনীতিতেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত মন্দার আশঙ্কাকে পুরোপুরি স্বীকার করা হয়নি।

মার্কিন বাণিজ্য সচিব হোয়ার্ড লুটনিক এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ‘‘বিদেশি পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তে পারে, তবে আমেরিকান পণ্যের দাম কমবে। তাই মন্দার কোনও সম্ভাবনা নেই।’’ তবে তাঁর এই বক্তব্য অর্থনীতিবিদদের আশ্বস্ত করতে পারেনি। বরং বিনিয়োগকারী মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ট্রাম্প কি সঠিক পথে?

ট্রাম্পের দৃষ্টিতে, তাঁর নীতি আমেরিকাকে দীর্ঘমেয়াদে লাভবান করবে। তাঁর দাবি, ‘‘আমরা আমাদের দেশের হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধার করছি। এটি সহজ কাজ নয়, পরিবর্তন সবসময়ই কিছুটা কঠিন।’’ কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই পরিবর্তনশীল নীতির কারণে মার্কিন অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের নীতির ফলে একদিকে যেমন স্বল্পমেয়াদে কিছু শিল্প উপকৃত হচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকান ব্যবসার উপর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে ছোট এবং মাঝারি ব্যবসাগুলোর জন্য এটি আরও বেশি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

শেষ কথা

মার্কিন অর্থনীতি এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং নতুন বাণিজ্য কৌশল, অন্যদিকে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং মন্দার আশঙ্কা। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল— ট্রাম্প কি সত্যিই আমেরিকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে পারবেন, নাকি তাঁর নীতিই দেশকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেবে? আগামী কয়েক মাসের বাজারের গতিবিধিই হয়তো এর উত্তর দেবে।

ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *