মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা!
পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি না মিটতেই নতুন করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় পাপুয়া প্রদেশে এক মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যা এবং তাঁর বিমান পুড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে একটি সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। যদিও এই দাবির সবকটি অংশ এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত করেনি ইন্দোনেশিয়ার প্রশাসন।
ঘটনাটি ঘটেছে পাপুয়ার ইয়াহুকিমো জেলার বালিংগামা এলাকায়। বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিপিএনপিবি) দাবি করেছে, মার্কিন পাইলট নিকোলাস এফ গসেলিন যে অসামরিক বিমানটি চালাচ্ছিলেন, সেটি তাদের ঘোষিত ‘রেড জ়োন’-এ প্রবেশ করেছিল এবং নিয়মিত ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্যদের পরিবহণে ব্যবহার করা হচ্ছিল। সেই কারণেই বিমানটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
সংগঠনের মুখপাত্র সেবি সম্বমের দাবি, একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে বিমানটি ওই এলাকায় যাতায়াত চালিয়ে যাচ্ছিল। তাই এটি কেবল একটি হামলা নয়, বরং ইন্দোনেশিয়া ও আমেরিকার উদ্দেশে দেওয়া একটি রাজনৈতিক বার্তা। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জের মধ্যস্থতায় পাপুয়া সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনারও দাবি জানিয়েছেন।
তবে ঘটনাটি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার প্রশাসন। যৌথ পুলিশ-সামরিক টাস্কফোর্স জানিয়েছে, বিমানটি পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও মার্কিন পাইলট নিহত হয়েছেন কি না বা হামলার নেপথ্যে সত্যিই টিপিএনপিবি রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত চলছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ওয়ামেনা থেকে ইয়াহুকিমোর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। এতে এক জন মার্কিন পাইলট এবং সাত জন স্থানীয় যাত্রী ছিলেন। অবতরণের পর বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট বিমানটি পিটি এএমএ নামে একটি সংস্থার, যারা দুর্গম এলাকায় খাদ্য, জ্বালানি ও ডাক পরিষেবা পৌঁছে দেয়। এখনও পর্যন্ত সংস্থা বা জাকার্তায় মার্কিন দূতাবাসের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়া একটি বৃহৎ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে। সেই চুক্তির আওতায় সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং যৌথ অভিযানে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছিল। পাশাপাশি মলাক্কা প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এই পরিস্থিতিতে অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের মতে, ওয়াশিংটন ইন্দোনেশিয়াকে বিদ্রোহ দমনে আরও সামরিক সহায়তা দিতে পারে। আবার অন্যদের ধারণা, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে আমেরিকা সরাসরি কূটনৈতিক বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদক্ষেপও বিবেচনা করতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, পাপুয়া অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। এর আগেও বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালে নিউ জ়িল্যান্ডের পাইলট ফিলিপ মেহরটেনসকে অপহরণ করেছিল একই অঞ্চলের বিদ্রোহীরা। দীর্ঘ বন্দিদশার পর ২০২৪ সালে তিনি মুক্তি পান। নতুন এই হামলার দাবি সেই অশান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলে দিল।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?