ট্রাম্প-নেতানিয়াহু টানাপোড়েনের মাঝেও প্রশ্ন!
ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজ়রায়েলের সম্পর্ক। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা কমানোর বার্তা দিলেও, বাস্তবে পরিস্থিতি বারবার অন্য দিকে মোড় নিচ্ছে। আর সেই কারণেই প্রশ্ন উঠছে— পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাতে আসল নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?
সম্প্রতি ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে জানান, ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং লেবাননে সামরিক অভিযান না বাড়ানোর আশ্বাসও পেয়েছেন। সেই বার্তার পর কিছু সময়ের জন্য সংঘাত কমার ইঙ্গিত মিললেও, খুব দ্রুতই পরিস্থিতি বদলে যায়। দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলার খবর সামনে আসে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন বিতর্ক শুরু হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলির একাংশের দাবি, এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপে তীব্র বাক্যবিনিময়ও হয়েছে। যদিও এই দাবির সরকারি নিশ্চিতকরণ মেলেনি, তবুও দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিত স্পষ্ট বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে ইজ়রায়েলের কৌশলগত লক্ষ্য দীর্ঘদিনের। তেহরানের সামরিক ও পরমাণু কর্মসূচিকে বড় হুমকি হিসেবে দেখে তেল আভিভ। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার অনেক সময় বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। ফলে দুই দেশের স্বার্থ সব ক্ষেত্রে এক নয়।
তবে এটাও সত্য যে, ইজ়রায়েল ও আমেরিকার সম্পর্ক নতুন নয়। ১৯৪৮ সালে ইজ়রায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ওয়াশিংটন তাদের অন্যতম প্রধান মিত্র। সামরিক সহযোগিতা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব এবং কূটনৈতিক সমর্থনের কারণে দুই দেশের সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে।
আজও যুক্তরাষ্ট্র ইজ়রায়েলকে বিশ্বের অন্যতম বড় সামরিক সহায়তা প্রদানকারী দেশ। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রেও ইজ়রায়েল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকের মতে, এই সম্পর্ককে শুধু “এক দেশ অন্য দেশকে নিয়ন্ত্রণ করছে” বলে ব্যাখ্যা করা বাস্তব পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সরলীকরণ করা হবে।
আসলে সম্পর্কটি অনেক বেশি জটিল। একদিকে ইজ়রায়েল মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের উপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও পশ্চিম এশিয়ায় নিজের প্রভাব বজায় রাখতে ইজ়রায়েলকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখে।
বর্তমানে ইরান, লেবানন এবং হিজ়বুল্লাকে ঘিরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা এই জোটের ভিতরের টানাপোড়েনকেও সামনে এনে দিয়েছে। ট্রাম্প যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার ইঙ্গিত দিলেও, মাঠের পরিস্থিতি বারবার দেখাচ্ছে যে বাস্তব সিদ্ধান্ত শুধু ওয়াশিংটনের হাতে নেই।
তাই “আমেরিকা কি ইজ়রায়েলের হাতের পুতুল?”— এই প্রশ্নের সরল উত্তর নেই। তবে এটুকু স্পষ্ট, পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে দুই দেশের স্বার্থ এতটাই জড়িয়ে গিয়েছে যে, একে অপরকে ছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া আজ প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?