মমতার মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক!
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হল। এ বার তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম বিভাগের দ্বারস্থ হয়েছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘অখিল ভারত হিন্দু মহাসভা’। সংগঠনের দাবি, ওই মন্তব্য দেশের ভাবমূর্তি এবং সামাজিক সম্প্রীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সেই কারণেই তারা আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সংগঠনের রাজ্য সভাপতি চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম শাখায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে মমতা যে মন্তব্য করেছিলেন, তা আন্তর্জাতিক স্তরেও ভারতের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। পাশাপাশি, এই ধরনের বক্তব্য থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে দাবি সংগঠনের।
এর আগেও একই ঘটনায় শিলিগুড়ির সাইবার ক্রাইম থানায় এক আইনজীবী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ফলে বিষয়টি ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
সংগঠনের অভিযোগ, মমতার মন্তব্যের ফলে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে অস্বস্তি বা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। দেশের মর্যাদা ও নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে তারা পুলিশের কাছে আইনানুগ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
বিতর্কের সূত্রপাত মমতার একটি বক্তব্যকে ঘিরে। ধর্মতলার সভায় তিনি দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশে বহুল আলোচিত এক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অভিযুক্তদের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেফতার করেছিল। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথাও হয়েছিল এবং দেশের স্বার্থে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম প্রকাশ করছেন না।
সভায় উপস্থিত অনেকেই নাম প্রকাশের দাবি তুললেও মমতা তা করতে অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করলে বাংলাদেশে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে, যা তিনি চান না। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এই ঘটনার নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাঁর জানা রয়েছে।
যদিও মমতা কোনও ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি, রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে তিনি বাংলাদেশের এক আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গই তুলেছিলেন। সেই মামলায় অভিযুক্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিককে চলতি বছরের মার্চ মাসে বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছিল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ।
মমতার মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?