জোড়াফুলের দখল নিয়ে নতুন লড়াই! মমতার তৃণমূল কি হারাতে পারে দলের প্রতীক?

মমতার তৃণমূল কি হারাতে পারে দলের প্রতীক? পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে তৈরি হয়েছে তীব্র টানাপড়েন। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হয়েছে ক্ষমতার লড়াই। এ বার…

June 24, 2026
1 min read

মমতার তৃণমূল কি হারাতে পারে দলের প্রতীক?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে তৈরি হয়েছে তীব্র টানাপড়েন। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হয়েছে ক্ষমতার লড়াই। এ বার সেই সংঘাত পৌঁছে গিয়েছে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়— ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের প্রশ্নে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের সামনে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠী দলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি তুলেছে।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বিধায়কেরা সম্প্রতি একটি বিশেষ অধিবেশন করে তৃণমূলের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছেন। সেখানে দলের চেয়ারপার্সনের পদ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরানোর কথা জানানো হয়েছে। নতুন কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে রাখা হয়েছে ঋতব্রত-সহ জাভেদ খান, বিপ্লব মিত্র এবং সন্দীপন সাহাকে।

এই ঘটনার পর কালীঘাটের তৃণমূল শিবির পাল্টা পদক্ষেপ করেছে। বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, শুধুমাত্র সাংগঠনিক পদক্ষেপে কি দলের প্রতীক রক্ষা করা সম্ভব হবে?

কারণ, বিদ্রোহী গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে নতুন কমিটির তথ্য জমা দেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতীক নিয়ে শেষ সিদ্ধান্ত কমিশনের হাতেই থাকবে। অতীতে বিভিন্ন দলের ভাঙনের সময়ও এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে।

প্রতীকের জন্য আদালতের পথে বিদ্রোহী সাংসদেরা?

শুধু বিধায়ক নয়, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের একাংশও জোড়াফুল প্রতীকের দাবিতে সক্রিয় হয়েছে। সূত্রের খবর, তৃণমূল থেকে বেরিয়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদও আইনি পথে প্রতীক পাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন।

তাঁদের বর্তমান রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হলেও, জোড়াফুল প্রতীকের সঙ্গে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের আবেগ ও রাজনৈতিক পরিচিতির কারণে সেটি নিজেদের কাছে রাখার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

আগেও প্রতীক নিয়ে তৈরি হয়েছে সংকট

ভারতের রাজনীতিতে দল ভেঙে প্রতীক নিয়ে টানাপড়েন নতুন নয়। মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

২০২২ সালে শিবসেনা ভেঙে একনাথ শিন্দের নেতৃত্বে নতুন গোষ্ঠী তৈরি হয়। পরে নির্বাচন কমিশন শিন্দে শিবিরকেই আসল শিবসেনা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ‘তির-ধনুক’ প্রতীক বরাদ্দ করে। একইভাবে অজিত পওয়ারের নেতৃত্বাধীন এনসিপি গোষ্ঠীও ‘ঘড়ি’ প্রতীক পায়।

এই উদাহরণগুলিই এখন তৃণমূলের ক্ষেত্রে আলোচনায় উঠে আসছে।

জোড়াফুল প্রতীকের ইতিহাস

১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা হয়। শুরু থেকেই ‘জোড়াফুল’ প্রতীক দলের পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। মমতা বারবার এই প্রতীককে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দলের সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন।

যদিও এই প্রতীকের সৃষ্টিকর্তা নিয়ে অতীতে বিতর্কও হয়েছে। চিত্রশিল্পী সোমনাথ চৌধুরী দাবি করেছিলেন, তিনিই এই লোগোর নকশা তৈরি করেছিলেন।

তবে এত বছরের রাজনৈতিক যাত্রায় জোড়াফুলই তৃণমূলের প্রধান পরিচয় হয়ে উঠেছে।

শেষ সিদ্ধান্ত কার?

বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিদ্রোহী শিবির— দুই পক্ষই নিজেদের বৈধ বলে দাবি করছে। মমতা শিবিরও নতুন কর্মসমিতির তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি প্রতীকের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোনও একটি পক্ষকে স্বীকৃতি দেয়, তা হলে অন্য পক্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। ফলে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে আইনি লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল।

এখন নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে। শেষ পর্যন্ত মমতার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতীক কার হাতে থাকে, সেটাই আগামী দিনের অন্যতম বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *