ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতার পথে কমিশন: প্রকাশ্যে আসছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ ও ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের পূর্ণ তালিকা

ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতার পথে কমিশন! ভোটার তালিকা ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও প্রশ্নচিহ্নের মাঝে এ বার বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। শুধু ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’— অর্থাৎ তথ্যগত অসঙ্গতি থাকা ভোটারদের তালিকাই নয়,…

January 22, 2026
1 min read

ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতার পথে কমিশন!

ভোটার তালিকা ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও প্রশ্নচিহ্নের মাঝে এ বার বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। শুধু ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’— অর্থাৎ তথ্যগত অসঙ্গতি থাকা ভোটারদের তালিকাই নয়, পাশাপাশি প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে ‘আনম্যাপড’ বা নো-ম্যাপিং ভোটারদের সম্পূর্ণ তালিকাও। বুধবার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকেই এই দুই তালিকা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে প্রায় ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন ভোটার ‘আনম্যাপড’ হিসেবে চিহ্নিত। অর্থাৎ, তাঁদের ভোটার পরিচয়ের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনও ভোটকেন্দ্র বা এলাকার মানচিত্রগত সংযোগ নেই। অন্য দিকে, প্রায় ৯৪ লক্ষ ৪৯ হাজার ১৩২ জন ভোটারের নামের সঙ্গে রয়েছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’, যেখানে বয়স, ঠিকানা বা অন্যান্য নথিগত তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সির তালিকা প্রকাশ করা কমিশনের বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে আদালতের নির্দেশ না থাকলেও ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের তালিকাও প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কমিশনের এই পদক্ষেপকে স্বচ্ছতার দিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলেই মনে করছেন অনেকেই।

কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই দুই তালিকা ইতিমধ্যেই জেলা শাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) এবং ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ইআরও) কাছে রয়েছে। ২৫ জানুয়ারি থেকে ভোটাররা অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নিজেদের নথি জমা দিতে বা আপত্তি জানাতে পারবেন। শুনানির সময় মাধ্যমিক পাশের শংসাপত্রের পাশাপাশি মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডও বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে— যা বহু ভোটারের জন্য স্বস্তির খবর।

এ দিকে, এসআইআর (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন) সংক্রান্ত শুনানিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে আগেই। এ বার সে বিষয়ে কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন— আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। কোথাও বিশৃঙ্খলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এসআইআর প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে চালাতে প্রতিটি জেলায় পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্মী মোতায়েন করতে হবে। রাজ্য পুলিশের ডিজি থেকে শুরু করে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসকদের স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে— কোথাও যেন আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে এবং পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ ভাবে সম্পন্ন হয়।

ভোটার তালিকা সংশোধনের এই পর্ব রাজ্যের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের এই উদ্যোগে কতটা স্বচ্ছতা ও আস্থা ফিরে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সাধারণ মানুষ।

‘স্পিরিট’-এ প্রভাসের ১৬০ কোটি! নায়িকাদের পারিশ্রমিকের ফারাক ঘিরে নতুন চর্চা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *