তৃতীয় ভোটার তালিকা প্রকাশ!
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা যেন কাটছেই না। নির্বাচন কমিশন তৃতীয় দফার তালিকা প্রকাশ করলেও এখনও স্পষ্ট নয়—‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের মধ্যে ঠিক কত জনের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হল, আর কত জনের নাম বাদ পড়ল।
শুক্রবার গভীর রাতে দ্বিতীয় অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছিল চূড়ান্ত তালিকা এবং ২৩ মার্চ গভীর রাতে আসে প্রথম অতিরিক্ত তালিকা। ফলে মোট তিনটি ধাপে তালিকা প্রকাশ করল কমিশন।
তবে এবারও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি অধরাই রয়ে গেল। কতজনের নাম চূড়ান্ত ভাবে বাদ গেল বা কতজন তালিকায় ফিরলেন—এই সংখ্যা জানানো হয়নি। কমিশন শুধু জানিয়েছে, বুথভিত্তিক তালিকা আপডেট করা হয়েছে, যাতে ভোটাররা নিজেদের নাম খুঁজে দেখতে পারেন।
২৩ মার্চ প্রকাশিত প্রথম অতিরিক্ত তালিকায় প্রায় ২৭ লক্ষ নাম ছিল। সূত্রের দাবি, তার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ নাম বাদ পড়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় তালিকায় সেই পরিসংখ্যান প্রকাশ না করায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর-এর অংশ। ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়, তখন প্রায় ৬০ লক্ষেরও বেশি ভোটার ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থায় ছিলেন। তাঁদের নাম যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রায় ৭০৫ জন বিচারককে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ধাপে ধাপে এই নিষ্পত্তির তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করেই তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য যাচাই করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে, তার পরই গভীর রাতে তালিকা প্রকাশ করা হয়। আগের বারও একই ভাবে মধ্যরাতে তালিকা প্রকাশ হয়েছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শোনা গিয়েছিল।
এই তালিকা প্রকাশের পদ্ধতিও আগের মতোই রাখা হয়েছে। বুথভিত্তিক দুটি ভাগে তালিকা দেওয়া হয়েছে—একটি মূল তালিকা এবং অন্যটি বাদ পড়া নামের তালিকা। ফলে সাধারণ ভোটারদের নিজেদের নাম খুঁজে নিতে কিছুটা সুবিধা হলেও সামগ্রিক চিত্র এখনও অস্পষ্ট।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এসআইআর শুরু হওয়ার আগে রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। খসড়া তালিকায় প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়ে। পরে চূড়ান্ত তালিকায় আরও প্রায় ৫ লক্ষ নাম বাদ যায়। সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির শেষে বাদ পড়া নামের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৩ লক্ষেরও বেশি।
এই প্রেক্ষাপটে ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বারবার তালিকা প্রকাশ হলেও পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান না থাকায় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের এই ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশ প্রক্রিয়া চললেও স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে বিতর্ক থামছে না। ভোটারদের একাংশ এখনও অপেক্ষায়—তাদের নাম শেষ পর্যন্ত তালিকায় থাকবে, নাকি বাদ পড়বে?