ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় অগ্রগতি!
রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বড়সড় অগ্রগতির দাবি করল নির্বাচন কমিশন। প্রায় ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৪২ লক্ষের তথ্য যাচাই ও নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। তবে এখনও প্রায় ১৮ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে চতুর্থ অতিরিক্ত ভোটার তালিকা, যেখানে প্রায় দু’লক্ষ নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। যদিও এই তালিকা থেকে ঠিক কত জন বাদ পড়েছেন, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, এই তালিকায় থাকা প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ নাম বাদ যেতে পারে।
পুরো বিষয়টি বিচারবিভাগীয় তত্ত্বাবধানে চলছে। Sujay Paul-এর নেতৃত্বে বিচারকেরা এই বিবেচনাধীন ভোটারদের তথ্য খতিয়ে দেখছেন। এমনকি এই কাজে অন্য রাজ্য থেকেও বিচারকদের আনা হয়েছে, যাতে দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।
কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খসড়া এবং চূড়ান্ত তালিকা মিলিয়ে ইতিমধ্যেই মোট ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম বাদ গিয়েছে। এর আগে প্রথম অতিরিক্ত তালিকাতেই বাদ পড়েছিল প্রায় ১২ লক্ষ নাম। যদিও সেই তালিকায় কত জনের নাম নতুন করে যুক্ত হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
এই পুরো প্রক্রিয়ার সূচনা হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে। সেই সময় প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে প্রায় ৭০৫ জন বিচারক এই তালিকার নিষ্পত্তির কাজে যুক্ত রয়েছেন।
কমিশন জানিয়েছে, ধাপে ধাপে এই তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং সব প্রক্রিয়া শেষ করা হবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমার আগেই। প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ এপ্রিল—তার আগেই বাকি প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৭ কোটি ৮ লক্ষের কিছু বেশি। পরে চূড়ান্ত তালিকায় তা আরও কিছুটা কমে গিয়ে দাঁড়ায় ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজারের কাছাকাছি।
এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া এবং যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট আলোচনা চলছে। তবে কমিশনের দাবি, পুরো প্রক্রিয়াই স্বচ্ছতা বজায় রেখে এবং আদালতের নির্দেশ মেনে করা হচ্ছে।
এখন নজর রয়েছে বাকি ২০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁদের তথ্য যাচাই সম্পন্ন হলে, রাজ্যের ভোটার তালিকা আরও এক ধাপ পরিষ্কার ও নির্ভুল হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না