আমেরিকার শুল্কনীতিকে কড়া বার্তা
আমেরিকার শুল্কনীতিকে নিশানা করে সরাসরি কড়া বার্তা দিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। সম্প্রতি আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। দাবি, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্যই এই ‘শাস্তিমূলক পদক্ষেপ’। অথচ রাশিয়ার তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা চিনের উপর কোনো শুল্ক বসানো হয়নি। এই বৈষম্যমূলক নীতির বিরোধিতা করেই পুতিন মন্তব্য করেছেন, “আপনারা ভারত কিংবা চিনের সঙ্গে এইভাবে কথা বলতে পারেন না।”
এসসিও সম্মেলনের মঞ্চ থেকে বার্তা
এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে চিন সফরে গিয়েছিলেন পুতিন। সম্মেলন শেষে বেজিংয়ে চিনের সামরিক মহড়াও পরিদর্শন করেন তিনি। সফর শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুতিন জানান, ট্রাম্প প্রশাসন এশিয়ার দুই বৃহত্তম শক্তি—ভারত ও চিনকে অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। তাঁর কথায়, “ভারত ও চিন রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। তাদের নেতৃত্বকে দুর্বল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটা মেনে নেওয়া যায় না।”
‘ঔপনিবেশিক আমল শেষ’
পুতিন আরও বলেন, “ভারতের জনসংখ্যা প্রায় ১৫০ কোটি। চিন আজ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতি। এই দুই দেশের নিজস্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও আইন রয়েছে। আমেরিকার বোঝা উচিত, ঔপনিবেশিক আমল শেষ হয়েছে। সঙ্গীদের সঙ্গে সম্মান দেখিয়েই কথা বলতে হবে।” তাঁর এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিয়েছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
ভারতকে নিশানা আমেরিকার
আমেরিকার তরফে বলা হয়েছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্যই ভারতীয় পণ্যের উপর এই রেকর্ড শুল্ক বসানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মার্কিন শুল্কনীতির ইতিহাসে এটি অন্যতম সর্বোচ্চ হার। শুধু ভারত নয়, ব্রাজিলের উপরও সমান শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। তবু রাশিয়ার তেলের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ চিনকে কোনো শুল্ক দিতে হয়নি। এই দ্বিচারিতার কারণ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন পুতিন।
ভারতের অবস্থান স্পষ্ট
ভারত বারবার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এবং জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে বাণিজ্যনীতি তৈরি করা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেছেন, “আমরা আমেরিকার সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছি। ভারত সবসময়ই তার নিজের স্বার্থ অনুযায়ী নীতি স্থির করে।”
মোদী-পুতিন বৈঠকে শুল্ক ইস্যু
এসসিও সম্মেলনের ফাঁকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রেসিডেন্ট পুতিনের মধ্যে বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, বৈঠকে মার্কিন শুল্কনীতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার বিরুদ্ধে সরাসরি কণ্ঠস্বর তোলার সিদ্ধান্তে কূটনৈতিক বার্তা স্পষ্ট—রাশিয়া দুই গুরুত্বপূর্ণ এশীয় শক্তির পাশে দাঁড়াতে চাইছে।
নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুতিনের এই মন্তব্য শুধু মার্কিন নীতির সমালোচনা নয়, বরং বিশ্বরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের বার্তাও বয়ে এনেছে। ভারত ও চিন উভয়েই রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। এশিয়ার শক্তি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমা চাপের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে মস্কো।
পুতিনের বার্তায় স্পষ্ট—বিশ্ব এখন আর একক আধিপত্যে পরিচালিত হয় না। বহু মেরুর রাজনীতিতেই ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারিত হবে, আর সেই পথেই ভারত ও চিনের মতো শক্তিশালী দেশগুলিকে সম্মান দেখাতে হবে আমেরিকাকে।
ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ