জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে পটনায় বিক্ষোভ!
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিহারের রাজধানী পটনা। মঙ্গলবার গাঁধী ময়দানে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বাধে। ব্যারিকেড পেরিয়ে মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। এর পর শুরু হয় ধস্তাধস্তি। কয়েক জন বিক্ষোভকারীকে টেনেহিঁচড়ে প্রিজ়ন ভ্যানে তোলা হয় বলে খবর।
কেন পথে নামলেন ছাত্র সংগঠনগুলি?
ভোটপ্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার পটনায় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (আইসা) এবং রেভল্যুশনারি ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন (আরওয়াইএ)।
দুই সংগঠনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাঁধী ময়দানে জমায়েত বাড়তে থাকে। পরিকল্পনা ছিল, সেখান থেকে মিছিল করে লোকভবনের দিকে এগোবেন বিক্ষোভকারীরা।
কিন্তু জমায়েত ঘিরে আগে থেকেই কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল পুলিশ। গাঁধী ময়দানের বিভিন্ন প্রবেশপথে ব্যারিকেড বসানো হয়। প্রশাসনের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, নির্দিষ্ট জায়গাতেই বিক্ষোভ করা যাবে। কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছিল।
ব্যারিকেড টপকাতেই বাধা পুলিশের
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের খবর অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের ব্যারিকেড টপকে বাংলো চৌরাহার দিকে এগিয়ে যান। কিন্তু তাঁদের বেশি দূর যেতে দেয়নি পুলিশ। মিছিল আটকানোকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক জন আন্দোলনকারীকে আটক করে। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মহিলারাও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গাঁধী ময়দান চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায়। তবে সংঘর্ষে কত জন আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
দেশজুড়ে জ্ঞানেশ-বিরোধী আন্দোলন
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ চলছে। বিশেষ করে দিল্লিতে বিরোধীদের কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে বিক্ষোভ হয়। সেই কর্মসূচিতে বহু মানুষকে আটক করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলির একাংশও এই আন্দোলনে যোগ দেয়।
সোমবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তবে সেই আবেদন গৃহীত হয়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে ১১ জন বিরোধী দলনেতা সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন।
পটনার সাম্প্রতিক বিক্ষোভ সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনেরই আর একটি পর্ব। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং আন্দোলন মোকাবিলায় প্রশাসনের পদক্ষেপ— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, এখন সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।