৭০ বছর পর বদলাল ইতিহাস! আমেরিকার তৈরি ‘বুড়ো’ F-5 দিয়েই মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার দাবি

আমেরিকার তৈরি ‘বুড়ো’ F-5 দিয়েই মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার দাবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পুরনো F-5 যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেই কুয়েতে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ঘটনাটি সত্যি হলে প্রায়…

August 20, 2026
1 min read

আমেরিকার তৈরি ‘বুড়ো’ F-5 দিয়েই মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার দাবি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পুরনো F-5 যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেই কুয়েতে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ঘটনাটি সত্যি হলে প্রায় সাত দশক পর শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান সরাসরি মার্কিন স্থলবাহিনীর উপর বোমাবর্ষণ করতে সক্ষম হল—এমনই দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

কী ঘটেছিল?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ মার্চ কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিং-এ ইরানি F-5 যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। দাবি করা হয়েছে, তিনটি পুরনো জেট অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে মার্কিন ঘাঁটির দিকে যায়। হামলার আগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ঘাঁটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলেও ইরানি সূত্রে দাবি।

মার্কিন পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া না আসায় হামলার সমস্ত দাবি স্বাধীন ভাবে যাচাই করা কঠিন। তবে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন সামরিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ F-5?

F-5 মূলত আমেরিকায় তৈরি হালকা ওজনের সুপারসনিক যুদ্ধবিমান। ষাটের দশক থেকে এটি বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত হয়েছে। ইরান শাহের আমলে আমেরিকার কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক F-5 সংগ্রহ করেছিল।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক বদলে গেলেও ইরানি বিমানবাহিনী পুরনো F-5 বিমানগুলিকে নানা ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করে ব্যবহার করে আসছে।

৭০ বছর আগের স্মৃতি কেন ফিরল?

কোরীয় যুদ্ধের সময়, ১৯৫৩ সালে, উত্তর কোরিয়ার বাহিনী চোডো দ্বীপে মার্কিন অবস্থানের উপর রাতের বোমা হামলা চালিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন।

এর পর দীর্ঘ সময় মার্কিন স্থলবাহিনীর উপর শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান দিয়ে এমন সরাসরি হামলার ঘটনা ঘটেনি—এমন দাবিই সামনে এসেছে। সেই কারণেই ইরানের F-5 হামলার খবরকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে।

পুরনো যুদ্ধবিমানেই কেন সাফল্য?

এই ঘটনার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখানেই। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, F-5 বিমানগুলি অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়ায় রাডারে তাদের শনাক্ত করা কঠিন হয়েছিল। একই সঙ্গে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষার উপর চাপ তৈরি করা হয়েছিল।

তবে এই কৌশল সম্পর্কে প্রকাশ্যে আসা তথ্যের বড় অংশই সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি। তাই ঘটনাটিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘চরম ব্যর্থতা’ হিসেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্যের অপেক্ষা প্রয়োজন।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *