বিশ্বকাপের আবহেই ইতিহাসের সাক্ষী আমেরিকা!!
ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনার মাঝেই বিশ্বের নজর কেড়েছে এক অভিনব উদ্যোগ। যুক্তরাষ্ট্র তার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এমন একটি ‘টাইম ক্যাপসুল’ মাটির নিচে সংরক্ষণ করেছে, যা আগামী ২৫০ বছর পর্যন্ত খোলা হবে না। ২২৭৬ সালে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ক্যাপসুল খুলে ২০২৬ সালের আমেরিকা এবং সেই সময়ের মানুষের ভাবনা, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার এক অনন্য ঝলক দেখতে পাবে।
৪ জুলাই ফিলাডেলফিয়ায় বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ক্যাপসুলটি মাটির প্রায় ১০ ফুট নিচে পুঁতে রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য একটাই— ভবিষ্যতের মানুষের কাছে বর্তমান সময়কে অক্ষত অবস্থায় পৌঁছে দেওয়া।
কী এই ‘টাইম ক্যাপসুল’?
টাইম ক্যাপসুল এমন একটি বিশেষ পাত্র, যেখানে কোনও নির্দিষ্ট সময়ের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি, নথি, ছবি, চিঠি বা অন্যান্য বস্তু সংরক্ষণ করা হয়। বহু বছর বা শতাব্দী পরে সেটি খুলে সেই সময়ের সমাজ, সংস্কৃতি এবং মানুষের জীবন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
আমেরিকার এই ক্যাপসুলটি তৈরি হয়েছে বিশেষভাবে ২৫০ বছর টিকে থাকার মতো করে।
কীভাবে তৈরি হয়েছে এই বিশেষ ক্যাপসুল?
প্রায় ৪০৮ কেজি ওজনের স্টেনলেস স্টিলের তৈরি এই সিলিন্ডারটি এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে—
- আর্দ্রতা ভিতরে ঢুকতে না পারে
- বাতাস প্রবেশ বন্ধ থাকে
- কাগজ, চিঠি ও অন্যান্য সংবেদনশীল বস্তু শতাব্দীর পর শতাব্দী অক্ষত থাকে
এর বাইরে আরও একটি সুরক্ষামূলক স্তর রয়েছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষয় ও পরিবেশগত প্রভাব থেকে ক্যাপসুলটিকে রক্ষা করবে।
কী কী রাখা হয়েছে ভিতরে?
‘আমেরিকা২৫০ কমিশন’ দেশের সাধারণ মানুষকে নিজের পছন্দমতো স্মারক জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। নির্দিষ্ট কোনও তালিকা ছিল না।
ফলে ক্যাপসুলে জায়গা পেয়েছে—
- বিভিন্ন মানুষের হাতে লেখা ব্যক্তিগত চিঠি
- পোস্টকার্ড
- পোস্টার
- কবিতার পঙ্ক্তি
- প্রিয় গানের লিরিক্স
- ঐতিহাসিক নথি
- স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদ্যাপনের স্মারক
আমেরিকার ৫০টি রাজ্য, পাঁচটি টেরিটরি এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার বাসিন্দারা এই সংগ্রহে অংশ নিয়েছেন।
এআই-ও জায়গা পেল ভবিষ্যতের জন্য
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়গুলির একটি এসেছে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে। সেখানে বাসিন্দারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রশ্ন করেছিলেন— ২৫০ বছর পরে ক্যালিফোর্নিয়া কেমন হতে পারে?
এআই-এর সেই প্রশ্নোত্তরের কপিও সংরক্ষণ করা হয়েছে টাইম ক্যাপসুলে। অন্যদিকে নিউ হ্যাম্পশায়ারের বাসিন্দারা ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করেছেন নিজেদের ঐতিহাসিক যুদ্ধের তথ্য।
কেন এত আয়োজন?
২০১৬ সালে স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘আমেরিকা২৫০ কমিশন’ এই প্রকল্প শুরু করে। লক্ষ্য ছিল এমন একটি স্মৃতিভাণ্ডার তৈরি করা, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাবে ২০২৬ সালের আমেরিকার মানুষ কী ভাবত, কী লিখত, কী সংরক্ষণ করতে চাইত এবং নিজেদের সময়কে কীভাবে দেখতে চাইত।
২২৭৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা
এই ক্যাপসুল আগামী আড়াই শতাব্দী খোলা হবে না। ২২৭৬ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০তম স্বাধীনতা দিবসে এটি উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তখন পৃথিবী, প্রযুক্তি কিংবা মানবসভ্যতা কতটা বদলে যাবে, তা আজ কেউ জানে না। তবে যদি সেই দিন আসে, তাহলে এই টাইম ক্যাপসুল হবে ২০২৬ সালের আমেরিকার জীবন্ত ইতিহাস— ভবিষ্যতের মানুষের জন্য সময়ের এক অমূল্য বার্তা।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?