মোনালিসা-কাণ্ডে নতুন মোড়, মায়ের বিস্ফোরক দাবি!
মহাকুম্ভে ‘ভাইরাল গার্ল’ হিসেবে পরিচিত হওয়া মোনালিসা ভোসলে আবারও খবরের শিরোনামে। বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তৈরি হয়েছে রহস্য। আর এই ঘটনার মাঝেই সামনে এসেছে নতুন তথ্য, যা ঘিরে জট আরও বেড়েছে।
গত মাসে কেরলের তিরুঅনন্তপুরমে সমাজমাধ্যমে পরিচয় হওয়া মহারাষ্ট্রের যুবক ফরমান খান-কে বিয়ে করেন মোনালিসা। কিন্তু বিয়ের পরই তাঁর পরিবার অভিযোগ তোলে, মোনালিসা নাকি অপ্রাপ্তবয়স্ক। এই অভিযোগের ভিত্তিতে মধ্যপ্রদেশের মহেশ্বর থানায় পকসো আইনে মামলা দায়ের হয় ফরমানের বিরুদ্ধে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আরও নাটকীয় মোড়— খবর, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই ‘নিখোঁজ’ মোনালিসা। তবে কেরলের আদালত ফরমানের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানায় আপাতত ২০ মে পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দিয়েছে। কারণ, বিয়ের পর কেরলেই সংসার শুরু করেছিলেন এই দম্পতি।
এ দিকে, সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় ফরমান দাবি করেছেন, মোনালিসা নাকি নিজেই পালিয়ে গিয়েছেন। তিনি রাজস্থানের আজমের থেকে পুষ্করের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন স্ত্রীকে খুঁজতে। তাঁর কথায়, তিনি নিজেই এখন খোঁজ চালাচ্ছেন।
তবে এই দাবি মানতে নারাজ মোনালিসার পরিবার। তাঁর মায়ের অভিযোগ, মোনালিসাকে ‘লুকিয়ে রাখা হয়েছে’। এই বক্তব্যে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে— তিনি সত্যিই নিখোঁজ, নাকি অন্য কোনও চাপের মধ্যে রয়েছেন?
এই পুরো ঘটনা এখন একাধিক রাজ্যে বিচারাধীন— কেরল, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ— ফলে আইনি জটিলতাও বেড়েছে। তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। জনজাতি কমিশনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে, বিয়ের সময় আধার কার্ড অনুযায়ী মোনালিসা প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন এবং কেরলের একটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সেই বিয়ে নথিভুক্তও হয়েছে।
কিন্তু অন্য দিকে, মধ্যপ্রদেশের মহেশ্বর পুরসভার একটি জন্ম শংসাপত্রে তাঁর জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ২০০৮ বলে উল্লেখ রয়েছে, যা অনুযায়ী তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক। এই দ্বন্দ্বই মূল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।
তদন্তকারীরা ইতিমধ্যে মহেশ্বরের একটি সরকারি হাসপাতাল থেকে জন্মসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করেছেন। সেই সূত্র ধরেই ফরমানের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। যদিও বিয়ের পর কয়েকবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন মোনালিসা, তারপর হঠাৎই তাঁর এই ‘গায়েব’ হয়ে যাওয়া আরও রহস্য ঘনীভূত করেছে।
সব মিলিয়ে, প্রেম, বিয়ে, আইনি জটিলতা এবং নিখোঁজ হওয়ার মতো একাধিক ঘটনায় জড়িয়ে এই কাহিনি এখন রীতিমতো চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। সত্যিটা ঠিক কী— তা জানতে এখন অপেক্ষা তদন্তের অগ্রগতির দিকেই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?