ফেডারেল রিজ়ার্ভ থেকে কৃষ্ণাঙ্গ মহিলার অপসারণে বিতর্ক, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ আমেরিকার রাজনীতিতে ফের মাথাচাড়া দিয়েছে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ফেডারেল রিজ়ার্ভ বোর্ড অফ গভর্নরস থেকে লিজ়া কুক নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাকে অপসারণ করেছেন। উল্লেখযোগ্য…

September 1, 2025
1 min read

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ

আমেরিকার রাজনীতিতে ফের মাথাচাড়া দিয়েছে বর্ণবৈষম্যের অভিযোগ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ফেডারেল রিজ়ার্ভ বোর্ড অফ গভর্নরস থেকে লিজ়া কুক নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ মহিলাকে অপসারণ করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, লিজ়া ছিলেন এই পদে নিযুক্ত প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী। তাঁর অপসারণকে কেন্দ্র করে মার্কিন সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং মার্কিন রাজনৈতিক কাঠামোয় গভীরভাবে প্রোথিত বৈষম্যের প্রতিফলন।

ঘটনার পরদিন হোয়াইট হাউস থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর মন্ত্রিসভার একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। ছবিতে দেখা যায় ২৪ জন সদস্যের মধ্যে কেবল একজনই কৃষ্ণাঙ্গ। এই ছবিই নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন বর্ণবিদ্বেষী মানসিকতা নিয়ে কাজ করছে। যদিও ট্রাম্প এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, লিজ়া কুককে অপসারণের কারণ তিনি বন্ধক সংক্রান্ত জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত।

লিজ়া কুক কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ। তিনি পাল্টা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন এবং জানিয়েছেন, ফেডারেল রিজ়ার্ভের বোর্ড সদস্যকে অপসারণ করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। এই অবস্থায় বিষয়টি আদালতে গড়ানোর সম্ভাবনা প্রবল।

‘ব্ল্যাক ভোটারস ম্যাটার’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা লাটোসা ব্রাউন এই পদক্ষেপকে আখ্যা দিয়েছেন “পরমাণু বোমার মতো মারাত্মক” বলে। তাঁর অভিযোগ, “ট্রাম্প ফেডারেল রিজ়ার্ভকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। এতে সংস্থার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে।”

এদিকে, পরিসংখ্যান বলছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি চাকরির ১২ শতাংশই কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের দখলে। তবু, বৈষম্যের চিত্র ভয়ঙ্কর। গবেষক ক্যাটিকা রয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা তাঁদের চাকরি হারিয়েছেন। একই সময়ে ১ লাখ ৪২ হাজার শ্বেতাঙ্গ মহিলা এবং ১ লাখ ৭৬ হাজার হিসপ্যানিক মহিলা নতুন চাকরি পেয়েছেন। শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের কর্মসংস্থান বেড়েছে ৩ লাখ ৬৫ হাজার।

১৯৬৪ সালে পাশ হওয়া আমেরিকার নাগরিক অধিকার আইন স্পষ্টভাবে কর্মক্ষেত্রে বর্ণ, ধর্ম, লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করে। কিন্তু ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে এখনও সেই আইন কার্যকর হচ্ছে না বলে সমালোচনা তীব্র হচ্ছে। লিজ়া কুকের অপসারণের ঘটনাটি সেই দীর্ঘদিনের সমস্যাকেই সামনে এনে দিয়েছে।

এই বিতর্ক শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের ভাবমূর্তিই নয়, মার্কিন সমাজে চলমান বৈষম্য এবং ক্ষমতার রাজনীতির উপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন নজর আদালতের রায়ের দিকে, যা হয়তো মার্কিন গণতন্ত্রে প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমারেখা নতুনভাবে নির্ধারণ করবে।

ওড়িশায় ব্যবসায়ীর বাড়িতে ইডির তল্লাশি, ১৩৯৬ কোটির প্রতারণা মামলায় উদ্ধার কোটি টাকার সম্পদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *