ইজ়রায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টি, বাড়ছে উত্তেজনা!
ইরানের প্রতিশোধ যে আর শুধু হুঁশিয়ারিতে আটকে থাকবে না, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল বুধবার ভোরেই। একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং ক্লাস্টার বোমা ছুড়ে মধ্য ইজ়রায়েলে তীব্র আঘাত হানল তেহরান। এই হামলায় অন্তত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তেল আভিভ এবং তার আশপাশের এলাকা।
হামলার খবর ছড়াতেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ইজ়রায়েলের জরুরি পরিষেবার কর্মীরা। ‘মাগেন ডেভিড অ্যাডম’—দেশটির প্রধান জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা সংস্থার প্রকাশিত ভিডিয়োয় দেখা যায়, তেল আভিভের একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আশপাশের রাস্তায় ছড়িয়ে রয়েছে ভাঙা কংক্রিট, ধ্বংসাবশেষ আর আতঙ্কের চিহ্ন। উদ্ধারকাজ চলছে জোরকদমে।
শুধু ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, এই হামলায় ড্রোন এবং ক্লাস্টার বোমাও ব্যবহার করেছে ইরান বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, বহু জায়গায় সাইরেন বাজিয়ে সতর্ক করা হয়েছে বাসিন্দাদের।
এই হামলার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক একটি বড় ঘটনা—ইজ়রায়েলি আক্রমণে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানির মৃত্যু। তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই প্রতিশোধের সুর চড়াতে শুরু করে তেহরান। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকরা সবাই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, এই হামলার জবাব দেওয়া হবে, এবং তা হবে কঠোর।
তবে ইজ়রায়েলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি ইরানের আক্রমণ। উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক আরব দেশেও একযোগে হামলা চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে খবর। সেখানে থাকা ইজ়রায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিকে নিশানা করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। এতে করে গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে, ইজ়রায়েলও চুপ করে বসে নেই। হামলার পরই দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি পাল্টা আক্রমণের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। ইজ়রায়েলের সেনাবাহিনী লেবাননের বেইরুট শহরের বাচৌরা এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, লেবাননেও নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইজ়রায়েল।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার, যখন ইজ়রায়েল দাবি করে তাদের বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন আলি লারিজানি। প্রথমে সেই দাবি অস্বীকার করলেও পরে ইরান তা স্বীকার করে নেয়। শুধু লারিজানি নন, ওই হামলায় তাঁর পুত্র ও দেহরক্ষীরও মৃত্যু হয়। এই ঘটনাই ইরানের প্রতিশোধের আগুনকে আরও উসকে দেয়।
ইরানের সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মেজর জেনারেল আমির হাতানি ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছেন—এই প্রতিশোধ হবে “চূড়ান্ত এবং দুঃখজনক”। একই বার্তা দিয়েছেন অন্যান্য শীর্ষ সামরিক কর্তারা। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও সরাসরি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, যে আগামীর পাল্টা আঘাত হতে পারে অপ্রত্যাশিত এবং ভয়াবহ।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ চরমে পৌঁছচ্ছে। দুই শক্তিধর দেশের সংঘাত এখন আর সীমাবদ্ধ নেই নির্দিষ্ট কোনও অঞ্চলে—তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে গোটা পশ্চিম এশিয়ায়। এখন প্রশ্ন একটাই—এই সংঘর্ষ কি আরও বড় যুদ্ধে রূপ নেবে, নাকি কোনও কূটনৈতিক পথে মিলবে সমাধান?
ধীরে ধীরে কমান চিনির অভ্যাস: স্বাস্থ্য ভালো রাখতে কার্যকর কয়েকটি সহজ উপায়