‘নোবেল না দেওয়া বোকামি’: নরওয়ে ও ডেনমার্ককে একসঙ্গে কটাক্ষ ট্রাম্পের

নরওয়ে ও ডেনমার্ককে একসঙ্গে কটাক্ষ ট্রাম্পের! নিজেকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে তুলে ধরতে কখনওই কুণ্ঠা করেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। কিন্তু শান্তিতে নোবেল পুরস্কার এখনও অধরা—এই আক্ষেপ যে তাঁর মনে…

January 8, 2026
1 min read

নরওয়ে ও ডেনমার্ককে একসঙ্গে কটাক্ষ ট্রাম্পের!

নিজেকে ‘শান্তির দূত’ হিসেবে তুলে ধরতে কখনওই কুণ্ঠা করেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। কিন্তু শান্তিতে নোবেল পুরস্কার এখনও অধরা—এই আক্ষেপ যে তাঁর মনে গেঁথে রয়েছে, তা ফের একবার স্পষ্ট করে দিলেন তিনি। বুধবার নিজের সমাজমাধ্যম ‘ট্রুথ’-এ দেওয়া একাধিক পোস্টে ট্রাম্প একযোগে তোপ দাগলেন ন্যাটোর দুই সদস্য দেশ ডেনমার্ক ও নরওয়ের বিরুদ্ধে। নরওয়েকে সরাসরি আক্রমণ করে তাঁর মন্তব্য, “আমাকে নোবেল না দেওয়ার সিদ্ধান্তটা ছিল নিছক বোকামি।”

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে সাম্প্রতিক টানাপড়েনের আবহেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য। ডেনমার্কের তরফে আগেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন হস্তক্ষেপ ন্যাটোর ঐক্যকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। তার পাল্টা জবাবে ট্রাম্প লেখেন, রাশিয়া বা চিন ন্যাটোকে বিশেষ গুরুত্ব দেয় না। এমনকি, আমেরিকার প্রয়োজনে এই সামরিক জোট সত্যিই পাশে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে যোগ করেন, “ওরা আমাদের পাশে না থাকলেও আমরা ন্যাটোর পাশে থাকব।”

নিজের সাফল্যের খতিয়ান দিতেও ভোলেননি ট্রাম্প। তাঁর দাবি, “আমি একাই আটটি যুদ্ধ শেষ করেছি।” সেই প্রসঙ্গ টেনেই নরওয়ের উদ্দেশে তাঁর খোঁচা—এত কিছুর পরেও নোবেল কমিটি তাঁকে উপেক্ষা করেছে। উল্লেখ্য, শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করে নরওয়ের নোবেল কমিটি।

ন্যাটোর অর্থনৈতিক দায় নিয়েও সদস্য দেশগুলিকে কড়া বার্তা দেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, ন্যাটো সদস্যদের জিডিপির অন্তত ২ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করার কথা থাকলেও বহু দেশ তা করছিল না। “আমেরিকা বোকামির মতো সেই খরচ বহন করেছে,”—লেখেন তিনি। পাশাপাশি মনে করিয়ে দেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে ইউক্রেন যুদ্ধও উঠে আসে। তাঁর দাবি, আমেরিকা পাশে না দাঁড়ালে এত দিনে ইউক্রেন রাশিয়ার অংশ হয়ে যেত। এই মন্তব্যের মাধ্যমে আবারও তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, বিশ্ব রাজনীতিতে আমেরিকার ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ—এবং সেই ভূমিকার স্বীকৃতি নোবেলের মাধ্যমে পাওয়া উচিত ছিল।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাত থামানোর দাবিতে আগেও নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বরং সম্প্রতি শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন ভেনেজ়ুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো, যিনি পুরস্কারটি ট্রাম্পকেই উৎসর্গ করেছেন বলে জানা যায়। সেই ভেনেজ়ুয়েলাতেই পরে মার্কিন হস্তক্ষেপ ও ক্ষমতার পালাবদল—এই সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ‘শান্তির নোবেল’ নিয়ে ক্ষোভ যে এখনও তীব্র, তা তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যেই স্পষ্ট।

ভিন্‌রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি: শুনানিতে হাজিরা নয়, অনলাইনেই জমা দেওয়া যাবে নথি

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *