ভিন্রাজ্যের ভোটারদের স্বস্তি!
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) পর্বে বড় স্বস্তির খবর পরিযায়ী শ্রমিক এবং রাজ্যের বাইরে থাকা ভোটারদের জন্য। দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন কমিশন এমন একটি বিকল্প ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে, যাতে ভিন্রাজ্যে থাকা মানুষদের শুনানির জন্য সশরীরে হাজির হতে না হয়।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁরা কাজ বা অন্য কারণে নিজের রাজ্যের বাইরে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে শুনানির নোটিস এলেও আর ভোটার কেন্দ্র বা নির্দিষ্ট শুনানিকেন্দ্রে গিয়ে নথি দেখানোর বাধ্যবাধকতা থাকবে না। বদলে চালু করা হবে একটি বিশেষ অনলাইন পোর্টাল। সেখানে লগ ইন করে প্রয়োজনীয় নথি আপলোড করলেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
অনলাইনের পাশাপাশি আরও একটি সহজ পথ রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-এর হোয়াট্সঅ্যাপ নম্বরে প্রয়োজনীয় নথি পাঠালেও তা গ্রহণ করা হবে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই দুই উপায়েই পাঠানো নথি যাচাই করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে কি না।
এই নতুন ব্যবস্থার উদ্দেশ্য একটাই—ভিন্রাজ্যে থাকা মানুষদের অযথা ভোগান্তি কমানো। কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, রাজ্যের বাইরে থাকা কোনও ভোটারকে শুনানিকেন্দ্রে আসতে বাধ্য করা যাবে না। কোনও বিএলও যদি তবুও জোর করে হাজিরা দিতে বলেন, বা দাবি করেন যে এ বিষয়ে কোনও লিখিত নির্দেশ নেই, তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে এফআইআর দায়েরের কথাও ভাবা হচ্ছে।
কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, কেউ যদি অনলাইনে নাম সংশোধন বা পুনর্নথিভুক্তির আবেদন করেন, সে ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতিই অনুসরণ করা হবে। আবেদনকারীদের জানাতে হতে পারে—তাঁরা বর্তমানে কোথায় রয়েছেন, কী কাজ করেন এবং কত দিন ধরে রাজ্যের বাইরে আছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই প্রথম নয়। এর আগেই বিদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য এসআইআর শুনানির ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। জানানো হয়েছিল, বিদেশে থাকা কেউ নোটিস পেলে সংশ্লিষ্ট দেশের ভারতীয় দূতাবাসে গিয়ে পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত নথি জমা দিলেই চলবে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার ভিন্রাজ্যে থাকা ভোটারদের জন্য আরও সহজ এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা।
সব মিলিয়ে, এসআইআর পর্বে স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অসুবিধা কমাতেই এই উদ্যোগ। বিশেষ করে যাঁরা কাজের খোঁজে বা জীবিকার তাগিদে রাজ্যের বাইরে রয়েছেন, তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তি।