নেতানিয়াহু ও ‘দ্য বিবি ফাইলস’!
ইরান-ইজ়রায়েল সংঘর্ষের মাঝেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শোরগোল ফেলে দিয়েছে আমেরিকার পডকাস্টার টাকার কার্লসনের নতুন তথ্যচিত্র “দ্য বিবি ফাইলস”, যেখানে ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর স্ত্রীর কুকীর্তি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।
তথ্যচিত্রে দাবি করা হয়েছে, নেতানিয়াহু তাঁর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু’র প্ররোচনায় ইরান আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জয় নিশ্চিত করতে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের ময়দানে টেনে এনেছেন ভুল তথ্যের মাধ্যমে। কার্লসন বলেন, ‘‘দর্শকরা বুঝবেন নেতানিয়াহু কিভাবে পর্দার আড়ালে আমেরিকাকে যুক্ত করেছেন, এবং তাঁর স্ত্রী এই কৌশলে কীভাবে প্রভাব ফেলেছেন।’’
হামাস এবং অর্থ সহায়তা
কার্লসনের তথ্যচিত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, নেতানিয়াহু গোপনে হামাসকে আর্থিক সহায়তা পাঠিয়েছেন। ২০১৮ সাল থেকে গাজায় কোটি কোটি ডলার বিতরণ করা হয়, যাতে সরাসরি হামাসের সামরিক শাখা সুবিধা না পায়। এছাড়া ২০১৬ সালে হামাসের উপর আক্রমণের পরিকল্পনা থাকলেও নেতানিয়াহু তা অনুমোদন দেননি, বরং প্যালেস্টাইন অঞ্চলে বিভাজন নীতি প্রয়োগের পক্ষে ছিলেন।
সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগডর লিবারম্যানও জানিয়েছেন, গাজা ও ওয়েস্ট ব্যাঙ্কে হামাসকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য অর্থ পাঠানো হয়েছিল। এই বিতর্কিত পদক্ষেপ তথ্যচিত্রে স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সামরিক ও কূটনৈতিক প্রভাব
তথ্যচিত্রে নেতানিয়াহু-পত্নী সারা নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য ভূমিকা ইরান আক্রমণ এবং পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গে সমালোচিত হয়েছে। মিরিয়াম এবং শেলডন অ্যাডেলসন দম্পতি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘‘সারা নেতানিয়াহু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে গভীর প্রভাব ফেলেছেন, এবং তার রণনীতি সরাসরি দেশকে প্রভাবিত করেছে।’’
ইজ়রায়েলের সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে তেল আভিভ ‘স্যামসন বিকল্প’ নীতি অনুযায়ী পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অপরিহার্য।
সাংবাদিকতা ও সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
তথ্যচিত্র প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে তা ভাইরাল হয়েছে। কার্লসনের সংস্থা দাবি করেছে, ইহুদিভূমিতে নেতানিয়াহু সরকার “দ্য বিবি ফাইলস” নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে। এতে দেখানো হয়েছে গোপন চুক্তি, সন্দেহজনক লেনদেন, এবং মার্কিন জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ড।
মিরিয়ামের সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি এবং প্রেস বা মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা। এতে সারা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রভাব এবং ব্যক্তিগত কূটকৌশল সামনে এসেছে।
বিশ্বমঞ্চে বিতর্ক
এই তথ্যচিত্র আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতানিয়াহুর অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করেছে। ইরান-ইজ়রায়েল যুদ্ধের সময় এ ধরনের অভিযোগ দেশটির কূটনীতি, সামরিক সিদ্ধান্ত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
টাকার কার্লসনের “দ্য বিবি ফাইলস” শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং ইসরায়েলি নেতৃত্বের কৌশল, ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতাদের প্রভাব এবং সামরিক সিদ্ধান্তের অন্তর্নিহিত কারণ নিয়ে সমালোচনামূলক আলো তুলে ধরেছে। বিশ্বব্যাপী এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত তথ্যচিত্রগুলোর মধ্যে একটি।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না