ভেঙে পড়ল চেন্নাইয়ের ব্যাটিং!
আইপিএলের দীর্ঘ ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ক্রিকেটপ্রেমীরা। প্রথমবার চেন্নাই সুপার কিংস-এর প্রথম একাদশে দেখা গেল না তিন স্তম্ভ—মহেন্দ্র সিংহ ধোনি, রবীন্দ্র জাডেজা এবং সুরেশ রায়না-কে। আর তার প্রভাব পড়ল সরাসরি মাঠের খেলায়ও।
গুয়াহাটির মাঠে রাজস্থান রয়্যালস-এর বিরুদ্ধে ম্যাচে একেবারেই অচেনা লাগল চেন্নাইকে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের ব্যাটিং যেন শুরু থেকেই দিশাহীন। প্রথমে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েও সেটিকে কাজে লাগাতে পারল না দল।
শুরুর দিকেই বড় ধাক্কা। মাত্র ১৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় চেন্নাই। দ্রুত ফিরে যান সঞ্জু স্যামসন (৬), অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় (৬) এবং আয়ুষ মাত্রে (০)। পাওয়ার প্লেতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে দল। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট পড়তে থাকায় কোনও বড় জুটি গড়ে ওঠেনি।
মাঝে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিলেন সরফরাজ খান ও কার্তিক শর্মা, তবে সেটাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। শিবম দুবে প্রথম বলেই ছক্কা মেরে শুরু করলেও দ্রুত ফিরে যান। অন্যদিকে নুর আহমেদও ব্যর্থ।
চরম চাপে কিছুটা লড়াই দেখান ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার জেমি ওভারটন। তাঁর ৩৬ বলে ৪৩ রানের ইনিংসই চেন্নাইকে কোনওমতে ১০০ পার করায়। শেষ দিকে অনশুল কম্বোজ সামান্য সঙ্গ দিলেও দল থামে ১৯.৪ ওভারে মাত্র ১২৭ রানে।
বল হাতে রাজস্থানের বোলাররা ছিলেন ধারালো। জোফ্রা আর্চার এবং নান্দ্রে বার্গার শুরুতেই আঘাত হেনে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। তাঁদের সুইং ও গতি সামলাতে পারেননি চেন্নাইয়ের ব্যাটাররা।
এই ম্যাচে না খেলার পেছনে রয়েছে নানা কারণ। ধোনি চোটের জন্য প্রথম দু’সপ্তাহ বাইরে। জাডেজাকে এ বার দলে রাখা হয়নি, আর রায়না আগেই অবসর নিয়েছেন। তবে এতদিন এই তিনজনের মধ্যে অন্তত একজন থাকতেন—এই প্রথম পুরোপুরি তাঁদের অনুপস্থিতি দেখা গেল।
চেন্নাইয়ের সাফল্যের ইতিহাসে এই তিন ক্রিকেটারের অবদান অপরিসীম। বহু ম্যাচে একক দক্ষতায় দলকে জিতিয়েছেন তাঁরা। তাই তাঁদের অনুপস্থিতিতে দলের এই ভঙ্গুর চেহারা অনেকটাই প্রত্যাশিত হলেও, এতটা ব্যাটিং বিপর্যয় নিশ্চয়ই ভাবেননি সমর্থকেরা।
এই ম্যাচ যেন স্পষ্ট করে দিল—নতুন যুগে প্রবেশ করেছে চেন্নাই। কিন্তু সেই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এখনও সময় লাগবে।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না