অলিম্পিক্সের পর এশিয়াডে পদকহীন মনু!
প্যারিস অলিম্পিক্সে জোড়া পদক জিতে রাতারাতি ভারতীয় শুটিংয়ের অন্যতম বড় মুখ হয়ে উঠেছিলেন মনু ভাকের। কিন্তু সেই সাফল্যের দু’বছর পর এশিয়ান গেমসে সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা হল তাঁর। নাগোয়া এশিয়াডে ১০ মিটার এয়ার পিস্তল এবং ২৫ মিটার পিস্তলের ব্যক্তিগত ও দলগত ইভেন্ট মিলিয়ে একাধিক সুযোগ পেলেও কোনও পদক জিততে পারেননি মনু। ২৫ মিটার পিস্তলের ব্যক্তিগত যোগ্যতা পর্বে ৫৭৯ স্কোর করে ১১ নম্বরে শেষ করেন তিনি।
১০ মিটার এয়ার পিস্তলের ব্যক্তিগত ইভেন্টে অবশ্য ফাইনালে উঠেছিলেন মনু। যোগ্যতা পর্বে তৃতীয় হয়ে ফাইনালে গেলেও শেষ পর্যন্ত পঞ্চম হন। তাঁর ফাইনাল স্কোর ছিল ১৮১.১। একই ইভেন্টের দলগত বিভাগেও ভারত চতুর্থ হয়ে পদক থেকে বঞ্চিত হয়।
এই ফল স্বাভাবিক ভাবেই প্রত্যাশার সঙ্গে মেলেনি। তবে একটি প্রতিযোগিতায় পদক না পাওয়াকে মনুর কেরিয়ারের মোড়বদল বলে দেখার মতো তথ্য এখনও নেই। প্যারিসের পরও তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে পদক জিতেছেন। তাই এশিয়াডের ফলকে তাঁর সামগ্রিক কেরিয়ারের মাপকাঠি হিসেবে দেখা কঠিন।
যশপাল রানার অনুপস্থিতি
এশিয়াডে মনুর ব্যর্থতার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে প্রসঙ্গটি উঠে এসেছে, তা হল তাঁর প্রাক্তন কোচ যশপাল রানার মৃত্যু। ১০ মিটার এয়ার পিস্তলের ফাইনালের পর মনু নিজেই প্রয়াত কোচের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, জাপানে এই প্রতিযোগিতায় একসঙ্গে থাকার পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা।
তবে তাঁর বর্তমান পারফরম্যান্সের সরাসরি কারণ হিসাবে যশপালের অনুপস্থিতিকে চিহ্নিত করার মতো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। শুটিংয়ে সামান্য ব্যবধানেও ফল বদলে যেতে পারে। অলিম্পিক্সের পদকজয়ী গগন নারংও মনুর এই ফলকে তাঁর কেরিয়ারের শেষের ইঙ্গিত হিসাবে দেখতে রাজি নন।
প্রত্যাশার চাপ কতটা?
প্যারিসে দু’টি পদক জেতার পর মনুকে ঘিরে প্রত্যাশা যে অনেক বেড়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এশিয়াডে নামার আগে তাই তাঁর কাছ থেকে একাধিক পদকের আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বড় প্রতিযোগিতায় প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না হওয়া ক্রীড়াবিদদের কেরিয়ারের স্বাভাবিক অংশ বলেই মনে করেন গগন।
তাঁর বক্তব্য, একটি খারাপ প্রতিযোগিতার পরে মনুর টেকনিক্যাল বা মানসিক সমস্যা রয়েছে বলে বাইরে থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। দীর্ঘ কেরিয়ারে এমন সময় আসতেই পারে।
এখন সামনে কী?
মনুর এশিয়াড অভিযান শেষ। অন্য দিকে ২৫ মিটার পিস্তলে ঈশা সিংহ ভারতের হয়ে রুপো জিতেছেন, অর্থাৎ এই ইভেন্টে ভারতীয় শুটিংয়ের লড়াইও যে যথেষ্ট শক্তিশালী, তা স্পষ্ট।
ফলে নাগোয়ার ব্যর্থতার পর মনুর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিজের সেরা ছন্দে ফেরা। প্যারিস অলিম্পিক্সের সাফল্য তাঁকে যে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে, তার পর একটি পদকহীন এশিয়াড অবশ্যই হতাশার। কিন্তু সেটিই তাঁর কেরিয়ারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দিচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছনোর কারণ নেই।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।