দিল্লিতে নিখোঁজ ছাত্রী স্নেহার রহস্যমৃত্যু: যমুনা থেকে ভেসে উঠল দেহ, আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু?

দিল্লিতে নিখোঁজ ছাত্রী স্নেহার রহস্যমৃত্যু! দিল্লিতে ছয় দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর, অবশেষে খোঁজ মিলল ত্রিপুরার বাসিন্দা উনিশ বছর বয়সি ছাত্রী স্নেহা দেবনাথের। রবিবার গভীর রাতে দিল্লির গীতা কলোনি উড়ালপুলের…

July 14, 2025
0 min read

দিল্লিতে নিখোঁজ ছাত্রী স্নেহার রহস্যমৃত্যু!

দিল্লিতে ছয় দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর, অবশেষে খোঁজ মিলল ত্রিপুরার বাসিন্দা উনিশ বছর বয়সি ছাত্রী স্নেহা দেবনাথের। রবিবার গভীর রাতে দিল্লির গীতা কলোনি উড়ালপুলের নিচে যমুনা নদীতে ভেসে ওঠে তাঁর নিথর দেহ। প্রথম নজরে মনে করা হচ্ছে, আত্মহত্যা করেছেন স্নেহা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।

স্নেহা দক্ষিণ ত্রিপুরার বাসিন্দা ছিলেন। পড়াশোনার জন্য দিল্লি গিয়েছিলেন এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মারাম সনাতন ধর্ম কলেজে স্নাতক স্তরে পড়ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয় ৭ জুলাই ভোররাতে। এরপর থেকে আর যোগাযোগ হয়নি। ফোন বন্ধ থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়ে যান পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা স্নেহার বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেই বন্ধু পিটুনিয়া জানান, স্নেহার সঙ্গে সেদিন আর দেখা হয়নি। এখান থেকেই উদ্বেগ আরও বাড়ে।

ঘটনার সূত্রপাত স্নেহার হোস্টেল ঘরে পাওয়া একটি সুইসাইড নোট থেকে। হাতে লেখা ওই নোটে নিজের জীবনের প্রতি বিতৃষ্ণা, বিষণ্ণতার কথা উল্লেখ করেছিলেন স্নেহা। বিশেষ করে সিগনেচার সেতু থেকে ঝাঁপ দেওয়ার ইঙ্গিতও ছিল সেখানে।

এই সূত্র ধরে দিল্লি পুলিশের অপরাধদমন শাখা এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে তল্লাশি শুরু করে। একাধিক ট্যাক্সিচালক এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য থেকেও উঠে আসে, স্নেহাকে শেষ দেখা গিয়েছিল সিগনেচার সেতুর কাছে।

পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল যমুনার নিগমবোধ ঘাট থেকে নয়ডা পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকা জুড়ে খোঁজ চালায়। অবশেষে রবিবার রাতের দিকে পুলিশকর্মীরা গীতা কলোনি উড়ালপুলের নিচে যমুনা নদীতে ভেসে থাকা এক মহিলার দেহ দেখতে পান। পরিবারের সদস্যরা সেটি স্নেহার দেহ বলেই শনাক্ত করেন।

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসা পর্যন্ত পুলিশ নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ। যদিও প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার সম্ভাবনাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্নেহার পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৭ জুলাই ভোর ৫টা ৫৬ মিনিটে স্নেহার মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল তাঁর। তখন তিনি রোহিলা স্টেশনের দিকে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন। এরপর সকাল ৯টার দিকেও পরিবারের তরফে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, কিন্তু ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনার পেছনে মানসিক অবসাদ, একাকিত্ব, কিংবা অন্য কোনও ব্যক্তিগত কারণ কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। স্নেহার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁরা চাইছেন, মৃত্যুর আসল কারণ পরিষ্কার হোক এবং যদি এর নেপথ্যে অন্য কিছু থেকে থাকে, তবে যেন দোষীদের শাস্তি হয়।

স্নেহার এই অকাল প্রয়াণ আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল, শহুরে জীবনে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব কতটা অপরিহার্য। পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, এই ধরনের সংকটে যারা পড়ছেন, তারা যেন পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলেন।

বিমানে জ্বালানির সুইচ ত্রুটি! এফএএ সতর্ক করেছিল সাত বছর আগে, গুরুত্ব দেয়নি এয়ার ইন্ডিয়া?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *